আদানী গ্যাস সংস্থার গাড়ির চালকের মৃত্যু, অসহায়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অন্যান্য চালকদের
আমার কথা, ৭ জুন
তনুশ্রী চৌধুরী, কাঁকসা:
শনিবার মধ্যরাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার রসুলপুরের কাছে রাস্তার ধার থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়। তার কাছে থাকা বৈধ নথিপত্র দেখে সেখানকার স্থানীয় পুলিশ কাঁকসায় তার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তার পরিবার গিয়ে দেহ পানাগড়ে নিয়ে আসে। মৃতের নাম বাবলু হালদার, তার বাড়ি কাঁকসার কলোনি এলাকায়। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী বাবলু হালদার পানাগড় শিল্প তালুকের আদানী গ্যাস সংস্থার একটি গাড়ি চালাতেন।
জানা গিয়েছে,পানাগড় শিল্প তালুকের মধ্যে অবস্থিত আদানি গ্যাস সংস্থার গ্যাসের ক্যাপসুল বোঝাই করা গাড়ি নিয়ে তিনি গত কয়েকদিন আগে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। রসুলপুরের কাছে রেলগেটে রেল লাইনের মাঝে তার গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। আরপিএফ সেই গাড়িটিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আইনি জটিলতায় এবং বৈধ কাগজের গরমিল থাকার কারণে তার গাড়ি আটকে রাখা হয়। বিষয়টি সংস্থার আধিকারিকদের জানানোর পর প্রায় নিত্যদিন তাকে সেই গাড়ির কাছে পানাগড় থেকে যেতে হতো। শনিবার তিনি পানাগড় থেকে রসুলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে গিয়ে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তবে কেউ তাকে কোনো সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।পরে মৃত অবস্থায় রাস্তায় পরেছিলেন তিনি। গভীর রাতে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ পানাগড়ে নিয়ে এসে সংস্থার সামনে দেহ রেখে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পর শেষমেষ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে শ্মশান খরচ এবং শ্রাদ্ধের খরচ সহ মৃতের স্ত্রীকে আজীবন পেনশন এবং পরিবারের একজনকে চাকরির আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠিয়ে নেন পরিবারের সদস্যরা।
যদিও ওই সংস্থায় কর্মরত অন্য গাড়ির চালকেরা জানিয়েছেন, রাস্তায় কাজে বেরোলে তাদের কোনো রকম সেফটি সিকিউরিটি নেই। যে সমস্ত গাড়িগুলি তারা চালান। সেই গাড়িগুলির অবস্থাও বেহাল। যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এক প্রকার ঝুঁকি নিয়েই তাদের কাজ করতে হয়। কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো রকম সহযোগিতা তারা পান না। আজ একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আগামী দিনে আরও অন্যান্য কর্মী একই ধরনের করুণ দশা হতে পারে। তাদের দাবি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা। শ্রমিকদের এবং গাড়ির চালকরা নিরাপত্তার বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো রকম সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ।



