ছেলের পর বাবা গ্রেপ্তার, কোটি টাকার ব্রাউন সুগার চক্রে বড় সাফল্য গোয়েন্দা বিভাগের
আমার কথা, ৪ সেপ্টেম্বর
মুনমুন দত্ত, আসানসোল:
বাংলা–ঝাড়খণ্ড সীমান্তে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের (ADPC)। কয়েকদিন আগে ব্রাউন সুগার পাচারের অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার একই মামলায় ধরা পড়লেন তার বাবা। আসানসোল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ওল্ড ডুরান্ড সিনেমা হল এলাকার কাছ থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা বিভাগ।
এর আগে ১৮ আগস্ট রাতে সালানপুর থানার ধাঙুড়ি–কাশিডাঙা এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ গ্রামেরও বেশি উচ্চমানের ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছিল পুলিশ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল চিরকুন্ডার অমিত কুমার সাউ (২০) এবং হিরাপুরের নাজিম উদ্দিন খান (২১)।
সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই গোয়েন্দারা বড় মাদকচক্রের সন্ধান পান। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আসানসোল বাসস্ট্যান্ডের কাছে ওঁত পেতে অভিযান চালিয়ে আরও ৩০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তিনি আগের মামলায় ধৃত এক অভিযুক্তের বাবা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাবা-ছেলে মিলে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার চক্র পরিচালনা করছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতের বিরুদ্ধে NDPS আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকের উৎস, সরবরাহের রুট এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ADPC-র এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে কমিশনারেটের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে। সীমান্ত থেকে শহর—সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু সাপ্লায়ার নয়, সাপ্লাইয়ের পুরো চেইনটাকে ভাঙ্গাই আমাদের লক্ষ্য। তার জন্য গোয়েন্দা অভিযান, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ টহল আরও জোরদার করা হয়েছে”।
পরপর দুটি বড় অভিযানে বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার উদ্ধার এবং বাবা-ছেলের গ্রেপ্তারি আসানসোলে সক্রিয় মাদকচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।



