বর্ধমান মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ মহিলা কলেজে ‘আজাদি ফ্রম ওয়েস্ট’ কর্মসূচি
আমার কথা, ৪ সেপ্টেম্বর
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার বর্ধমান মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি ‘আজাদি ফ্রম ওয়েস্ট’। কলেজ ও স্টার্ট আপ ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই যুব-নেতৃত্বাধীন টেকসই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব চিন্তাভাবনা, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়।
এদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা, উদ্ভাবনভিত্তিক জীবনযাপন, পরিবেশ রক্ষা, প্রাণী কল্যাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল জীবনধারার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই দিনভর একাধিক সৃজনশীল ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কলেজ অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় এই পর্ব। প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল ‘আজাদি ফ্রম ওয়েস্ট’ অর্থাৎ বর্জ্য থেকে মুক্তি।
এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য মোট চারটি বিভাগ রাখা হয়েছিল—কবিতা রচনা
,স্লোগান রচনা, পোস্টার নির্মাণ ও তাৎক্ষণিক আবৃত্তি বা ডিক্লেমেশন
কবিতা, স্লোগান এবং পোস্টার নির্মাণের জন্য ছাত্রীরা বাড়ি থেকে প্রস্তুতি নিয়ে নিজেদের কাজ নিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ডিক্লেমেশন ছিল তাৎক্ষণিক ভিত্তিক। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিযোগীদের বিষয় দেওয়া বা বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁদের তাৎক্ষণিক চিন্তাশক্তি, পরিবেশ-সচেতনতা এবং বক্তব্য উপস্থাপনের দক্ষতা যাচাই করা হয়।
এদিন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকরা।
প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুধুমাত্র শিল্পীসত্তা বা সৃজনশীলতার প্রকাশ নয়, বর্জ্যকে কীভাবে সম্পদে পরিণত করা যায় এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—সেই ভাবনাকেও সামনে আনা হয়। প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করা হবে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে ছিল অভিনব ‘ওয়েস্ট টু রাখি’ উদ্যোগ। এই উদ্যোগের বিশেষত্ব ছিল—বাড়িতে পড়ে থাকা বর্জ্য বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করে রাখি তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে তৈরি রাখি অনুষ্ঠানের দিন কলেজে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বর্জ্যকে শুধুমাত্র ফেলে দেওয়ার বস্তু হিসেবে না দেখে সৃজনশীলভাবে পুনর্ব্যবহারের ধারণাকে উৎসাহিত করা হয়।
এই রাখিগুলির বিচারও অনুষ্ঠানেই করার কথা ছিল। পাশাপাশি সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাখি বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়। ফলে পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি এই পর্বে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. আসরফি খাতুন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং দৈনন্দিন জীবনে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধকে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও এই ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।
স্টার্ট আপ ফাউন্ডেশনের আধিকারিক সন্দীপন সরকার এবং এদিনের অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এবং কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ঋষিগোপাল মণ্ডল জানান যে, এই ধরনের উদ্যোগ এবং কর্মসূচি ছাত্রীদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি তৈরিতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সহমর্মিতা এবং ভাতৃত্ববোধও গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। বর্জ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি রাখীগুলি এ দিন কলেজের অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য শিক্ষকদের হাতে পরিয়ে দেয় ছাত্রীরা। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড.আসরফি খাতুন বলেন, এর ফলে ছাত্রী-শিক্ষক সম্পর্ক আরো দৃঢ় এবং মজবুত হবে।



