শুনানির লাইনে ৯২ এর বৃদ্ধা আর হুইল চেয়ারে ৭৮র বৃদ্ধা, অমানবিক চিত্র দুর্গাপুরে
আমার কথা, সনাতন গরাই, দুর্গাপুর, ১৬ জানুয়ারী:
চোখে জল, শরীরে অসহায়তা, তবু নিয়মের কাছে মাথা নত করেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। একজনের বয়স ৯২ অপর্ণা ভট্টাচার্য, অন্যজন হুইলচেয়ারে বসে চন্দনা সরকার। দুর্গাপুরে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই দু’জন বৃদ্ধার অভিজ্ঞতা যেন একেবারে একই সুতোয় গাঁথা নিয়ম আছে, কিন্তু মানবিকতা নেই। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার নন কোম্পানি এলাকার বাসিন্দা অপর্ণা ভট্টাচার্য। শরীর আর সায় দেয় না, তবুও শুনানির ডাক এলে পরিবারের অনুরোধ উপেক্ষা করে তাঁকে হাজির হতে হয় দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে। বাড়িতে গিয়ে শুনানি নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছে। কিন্তু সেই আবেদন কাগজের পাতায়ই আটকে থাকে। অন্যদিকে, সিটি সেন্টার এলাকারই বাসিন্দা চন্দনা সরকার। বয়স ৭৮। গুরুতর অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন। হাড়ের ঘনত্ব ৩। হাত ভাঙা। বসে থাকলেও ব্যথা, দাঁড়ানো তো দূরের কথা। তবুও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তাঁকেও হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হয় মহকুমা শাসকের দপ্তরে। মেয়ের মুখে তখন চাপা ক্ষোভ। বর্ণালী সরকার বলেন, “মায়ের এই অবস্থায় হাঁটা অসম্ভব। আমরা বারবার অনুরোধ করেছিলাম, বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়া হোক। কিন্তু কেউ শোনেনি। শেষে বাধ্য হয়েই এই অবস্থায় বুথে নিয়ে আসতে হয়েছে।”



