বিকেলে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে রাতেই মারা গেলেন প্রসূতি, ভুল ইঞ্জেকশনে মৃত্যু?
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৪ এপ্রিলঃ
এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে গেল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে। ভুল ইঞ্জেকশনে মৃত্যু বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের। তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল সুপার।
কাঁকসার সন্ধিপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মী মুর্মু(২২) মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চেক আপ করাতে এলে চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বুধবার লক্ষ্মী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
লক্ষ্মীর শ্বশুর সুকুমার মুর্মু জানান, “গতকাল দুপুর ৩টে নাগাদ বৌমাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। সিজার করে একটি মেয়ের জন্ম দেয় বৌমা। এরপর বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে বেডে দেয়। সব ঠিকই ছিল। রাতে বৌমাকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় আর তারপরেই সে ছটফট করতে শুরু করে। কিছু সময় পরেই বৌমা মারা যায়। অথচ সেই খবরও হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয়নি। আজ সকালে হাসপাতালে আসার পর আমরা জানতে পারি আমাদের বৌমা মারা গিয়েছে”।
এরপরই হাসপাতালের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবার পরিজনরা। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ছুটে আসে, নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স। পুলিশ পরিস্তিতি সামলাতে গেলে তাদের সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবার পরিজনরা, দাবি জানাতে থাকেন অভিযুক্ত সিস্টার অথবা তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসককে তাদের সামনে আনা হোক।
প্রসূতির স্বামী অরুণ মুর্মু বলেন, “আমার সাথে যা ঘটনা ঘটেছে এরকম ঘটনা যেন আর কারোর সাথে না ঘটে। আমরা অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি”।
এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছোন তৃণমূল নেতা পঙ্কজ রায় সরকার। তিনি বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা সুপার ও মৃতার পরিবারের সকলের সাথে কথা বলেছি। যেটা হয়েছে সেটা হওয়া উচিত ছিল না। চিকিৎসায় গাফিলতি হওয়ার কথা নয়, কেউ কি তাহলে ষড়যন্ত্র করেছে? আমরা এর সঠিক তদন্ত চাইছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক”।
হাসপাতাল সুপার ডাঃ ধীমান মণ্ডল বলেন, “একজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে এটা ঠিক। তবে ইঞ্জেকশনে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে কমিটি গঠন করে সঠিক তদন্ত করা হবে”।



