বেসরকারি পরিবহন অ্যাপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাইক চালকদের
আমার কথা, ১১ ফেব্রুয়ারী
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
ভাড়া কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ, পরিবহন অ্যাপের চাপ এবং ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার অভাব। এই সমস্ত অভিযোগকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে বেসরকারি পরিবহন অ্যাপ সংস্থার বাইক চালকরা মঙ্গলবার থেকে ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন। এর জেরে বহু জায়গায় পরিষেবা কার্যত বন্ধ। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন একাধিক বাইক চালক। সংস্থার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বেসরকারি অ্যাপ সংস্থাগুলি ভাড়ার বড় অংশ কমিশন হিসেবে কেটে নিচ্ছে। অথচ চালকদের জন্য কোনও বীমা সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা বা সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। তেলের দাম বৃদ্ধি ও দৈনন্দিন খরচ বাড়ার পরেও ভাড়ার কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় রোজগার দিন দিন কমছে। ফলে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। বাইক চালক রক্তিম চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “সারাদিন রাস্তায় থাকি, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। কিন্তু শেষে হাতে যা থাকে, তাতে পরিবার চালানো অসম্ভব। সংস্থা শুধু কমিশন বাড়ায়, আমাদের কথা ভাবে না।” এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ভরসা হয়ে উঠেছে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘যাত্রী সাথী’ বাইক ট্যাক্সি পরিষেবা। চালকদের দাবি, যাত্রী সাথীর মাধ্যমে যে বুকিং মিলছে, তাতেই কিছুটা আয় হচ্ছে। কমিশন তুলনামূলক কম এবং রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে থাকায় পরিষেবার স্বচ্ছতাও বেশি বলে তাঁদের দাবি। তাই অনেকেই এখন বেসরকারি অ্যাপ ছেড়ে ‘যাত্রী সাথী’-র সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। রক্তিম চট্টোপাধ্যায় আরো বলেন, “এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকারের যাত্রী সাথী। আমরা চাই এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই মানুষকে পরিষেবা দিতে। অন্তত এখানে আমাদের ন্যায্য পারিশ্রমিকের আশা আছে।”



