প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিনেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান জেলার নেতার
আমার কথা, ১৪ মার্চ
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ সফরের দিনেই গেরুয়া শিবিরে ভাঙন। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার প্রভারী প্রমূখ রূপক পাঁজা। দুর্গাপুরে জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে তিনি তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন। এই যোগদানকে ঘিরে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রূপক পাঁজা বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে তিনি বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেখানে তিনি প্রত্যাশিত কাজের পরিবেশ পাননি। দলের ভেতরে অনেক অসঙ্গতি ও অগণতান্ত্রিক আচরণ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির নেতারা কয়লা চুরি, বালি চুরির সাথেও যুক্ত। অনুপ মাঝির সাথে ও সরাসরি আঘাত রয়েছে জিতেন্দ্র তিওয়ারির। রূপক পাঁজা জানান, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে. এসবই আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই কারণেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ যোগ দিলাম। রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমি এখন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হিসেবেই কাজ করতে চাই। দলের আদর্শ মেনে মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে বলে।” এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী রূপক পাঁজাকে দলে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। কারণ তারা বুঝতে পারছেন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। যারা মানুষের জন্য কাজ করতে চান এবং উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের দরজা সবসময় খোলা। রূপক পাঁজার মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী দলে যোগ দেওয়ায় সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।”
এ বিষয়ে বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মন্ডল বলেন, “কুমীরের গল্পে যেমন এক ছানা বার বার দেখাতো, তৃণমূল দলটা ঠিক তেমন। একজনকেই বার বার দেখাচ্ছে। আসলে তৃণমূল হল বহুরূপী”।
সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ভাঙন যে অব্যাহত রইল তা বলাই যায়।



