বালকের দুর্গাপুজো, নিজে তৈরি করে প্রতিমা, মণ্ডপ, নিজেই পুরোহিত
আমার কথা, সার্থক দে, অন্ডাল, ২০ সেপ্টেম্বর:
১৩ বছরের বালক নিজেই তৈরি করে মন্ডপ, মূর্তি। নিজেই পুরোহিত। পঞ্জিকা অনুসারে শুদ্ধ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে করে পুজো। যা দেখে হতবাক এলাকার মানুষজন। গত ৫ বছর ধরে সে দুর্গাপুজো করছে বলে জানান আবির্ভাবকরা।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। উৎসবের চারটি দিনের জন্য বছরভর অপেক্ষায় থাকে আপামর বাঙালি। বনেদি বাড়ীর পুজোর পাশাপাশি এখন থিম পুজোর ছড়াছড়ি। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে এখন প্রবেশ ঘটেছে কর্পোরেট দুনিয়ারও। ফলে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে এরই পাশাপাশি আছে দু’একটি ব্যতিক্রমী পূজোও। যা আলাদাভাবে নজর কাড়ে ভক্তদের। এরকমই একটি পুজো ঘিরে এখন হইচই পড়েছে উখরা গ্রামের মুখার্জি পাড়াতে। এই পুজোটির আয়োজক ১৩ বছরের বালক সৌরিশ ব্যানার্জি। মন্ডপ, প্রতিমা নিজের হাতে তৈরীর পাশাপাশি পুজোটির পুরোহিতও সে নিজে। উখড়া গ্রামের মহন্ত অস্থল পাড়া থেকে মুখার্জি পাড়া যাওয়ার রাস্তায় ডান হাতে সৌরিশদের বাড়ি। বাবা রঞ্জন ব্যানার্জি ইসিএল কর্মী, মা শুক্লা ব্যানার্জি গৃহবধূ। সৌরিশ পড়ে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে। শিশু বয়স থেকে পড়াশুনোর পাশাপাশি তার সমান আগ্রহ রয়েছে প্রতিমা তৈরি, ছবি আঁকা ও পূজোপাটে। বছর পাঁচেক আগে থেকে সে বাড়িতেই শুরু করেছে নিজের হাতে তৈরি কালি ও দুর্গা পূজার আয়োজন। এবার সে তৈরি করেছে এক ফুটের কাগজের সপরিবার দুর্গা প্রতিমা। বাড়ির ছাদে কাপড় ও প্লাইউড দিয়ে তৈরি করেছে মন্ডপ । সেখানেই হয়েছে পুজোর আয়োজন । প্রতিমা, মন্ডপ শিল্পীর পাশাপাশি এই পুজোর পুরোহিতও সে নিজে। প্রাপ্তবয়স্ক অভিজ্ঞ পুরোহিতের মতো সে সাবলীন ভাবে মন্ত্র উচ্চারণ করে নিজেই করে পুজো। সৌরিশ জানাই খুব ছোটবেলা থেকেই তার প্রতিমা তৈরি করার প্রতি ঝোক তৈরি হয়। এই কাজে তাকে উৎসাহিত করতো ঠাকুমা। ঠাকুমার এনে দেওয়া মাটি দিয়ে সে তৈরি করত কালি, দুর্গার মূর্তি । সম্প্রতি ঠাকুমা গত হয়েছেন। সেই কারণে মাটির পরিবর্তে এবার কাগজ দিয়ে সপরিবার দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছে বলে জানাই সৌরিশ।
বিস্ময়কর বালক সৌরিশের স্বপ্ন বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়া। তবে পুজোপাঠ চালিয়ে যেতে চাইছে। রাজ্য তথা দেশের সম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা নিয়েও সে ওয়াকিবহাল। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ব্যবহার করে না বলে জানায় সে। সৌরিশের জেঠু প্রাক্তন ইসিএল কর্মী চন্দন বন্দোপাধ্যায়, জ্যাঠামা সুজাতা বন্দোপাধ্যায় বলেন পড়াশোনার পাশাপাশি পুজোপাটেও সমান আগ্রহ রয়েছে সৌরিশের। আমরা তাকে সব কাজে উৎসাহ দিই। সে নিজের মতো করে বড় হোক বলে জানায় তারা।



