‘জয়দেব সেতু’-র উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী, শুরু হলো যাতায়াত
আমার কথা, কাঁকসা, ২৯ জুলাইঃ

এতো দিন বৃষ্টি হলেই কাঁকসা থেকে বীরভূমের কেন্দুলি যাওয়ার বালি মাটি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সেতু অজয় নদের জলের তোড়ে ভেসে যেতো। ফলে বন্ধ হয়ে যেতো দুই জেলার মধ্যে যাতায়াত। একমাত্র ভরসা ছিলো নৌকা। তবে সেই নৌকা পরিষেবা নিয়েও অনেক সমস্যা দেখা দিতো। বন্ধ হয়ে যেতো সমস্ত ছোট ও বড় গাড়ির যাতায়াত। ক্ষতির মুখে পড়তেন ব্যবসায়ীরা, সমস্যায় পড়তো স্কুল কলেজের পড়ুয়ারা।সেই সমস্যার কথা শুনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থায়ীভাবে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই মত শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ। প্রায় ২বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে ব্রিজ নির্মাণের কাজ। অবশেষে গত কয়েক মাস আগেই শেষ হয় সেই ব্রিজ নির্মাণের কাজ। সিদ্ধান্ত হয় সেই ব্রিজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত দিয়েই উদ্বোধন করা হবে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই উদ্বোধন হয় কাঁকসার শিবপুর থেকে জয়দেব যাওয়ার স্থায়ী ব্রিজের। মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারের সভা থেকে সেই ব্রিজের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন তিনি। এদিন কাঁকসার শিবপুরে ব্রিজের মুখে ব্রিজ উদ্বোধনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার,গলসির বিধায়ক নেপাল ঘোড়ুই,কাঁকসার বিডিও পর্ণা দে, জেলা শাসক পোন্নমবলম এস,পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য্য,দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল, পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত সহ অন্যান্যরা। জানা গেছে প্রায় ১৩৮কোটি টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজটি দৈর্ঘ্য প্রায় ১কিলোমিটার। এই ব্রিজ দিয়ে সমস্ত গাড়ি চলাচল শুরু হয় মঙ্গলবার থেকেই। ব্রিজ উদ্বোধন হওয়ার ফলে দুই জেলার আর্থিক উন্নতি বাড়বে ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও উন্নতি হবে।
এদিন কাঁকসার শিবপুর থেকে বীরভূমের জয়দেব যাওয়ার স্থায়ী ব্রিজ উদ্বোধন হওয়ার পরেই কাঁকসার শিবপুরে অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে দুর্গাপুর থেকে সিউড়ির একটি সরকারি বাসের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল সহ জেলা ও মহকুমা প্রশাসন। এদিন মঞ্চ থেকে সরকারি একটি বাসকে সবুজ পতাকা দেখান মন্ত্রী ও অন্যান্যরা। জানা গেছে আগামী দিনে আরও বিভিন্ন রুটের বাস এই রুটে চলাচল করবে। এদিন ইলামবাজারের সভা থেকে এই ব্রিজের নাম ‘জয়দেব ব্রিজ’ রাখার আবেদন জানান মমতা বন্দোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদনে খুশি দুই জেলার মানুষ। তারা জানিয়েছেন,এতদিনের সমস্যা মিটেছে তাদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিজের নামকরণ জয়দেব রাখার বিষয়ে সকলেই এক মত। তাদের দাবি একদম ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। কারণ ব্রিজের এক প্রান্তে রয়েছে জয়দেবের কেন্দুলি। তাই জয়দেব ব্রিজের নাম একদম সঠিক।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানিয়েছেন,দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে ব্রিজ টি উদ্বোধন হওয়ার ফলে। কাঁকসা ও বীরভূমের মধ্যে পর্যটন শিল্পের যেমন প্রসার ঘটবে তেমনই দুই জেলার মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে। মানুষ কম সময়ে এবার বীরভূম পৌঁছাতে পারবে।
দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল জানিয়েছেন, ব্রিজ নির্মাণের ফলে পরিবহন ব্যবস্থাও আরও উন্নত হলো। মঙ্গলবার থেকেই একটি দুর্গাপুর সিউড়ি বাসের উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী দিনে এই ব্রিজ দিয়েই বিভিন্ন রুটের গাড়ি চলবে।যে সমস্ত গাড়ি দুর্গাপুরের দিক থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে যাবে তাদের ক্ষেত্রে আরও সময় কম লাগবে।




