বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের! যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৭ মে:
দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর এ-জোনের বসুন্ধরা পার্ক সংলগ্ন জঙ্গলে মঙ্গলবার সকালে গাছের একই ডালে একই দড়িতে ফাঁস লাগানো এক যুগলের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো। পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক অনুমান আত্মঘাতী হয়েছে এই যুগল।
ফরিদপুর(লাউদোহা) থানার অন্তর্গত জামগড়া এলাকার বাসিন্দা লোটন বাউড়ি (২৭) ও দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত পারুলিয়ার বাসিন্দা বেলমনি মান্ডি(৩৪) একসাথে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ির কাজ করতেন। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে গত সোমবার থেকে দুজনেই নিখোঁজ হয়ে যায়। লোটনের বাড়ি থেকে গতকাল ফরিদপুর থানায় মিসিং ডায়েরিও করা হয়।
জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে লোটন ও বেলমনি দুর্গাপুরের ট্রাঙ্ক রোড এলাকায় একসাথে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। কিন্তু গতকাল থেকে দুজনকে আর দেখা যাচ্ছিল না বলে জানান বাড়ির মালিক। এরপরেই আজ সকাল ১০টা নাগাদ দুজনের এক সাথে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। বসুন্ধরা পার্কের জঙ্গলে স্থানীয় কয়েকটি মেয়ে ছাগল চড়াতে এসে দেখতে পায় একটি গাছের একই ডালে একই দড়ির ফাঁসে এক যুগলের দেহ ঝুলছে। তাঁরা এলাকাবাসীদের জানালে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। দুর্গাপুর থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এটি আত্মহত্যা।
জানা গিয়েছে লোটন ও বেলমনি দুজনেই বিবাহিত ও দুজনেরই দুটি করে সন্তান রয়েছে। প্রাথমিক অনুমান একসাথে কাজের সুত্রে দুজনের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। লোটনের পরিবার থেকে এই সম্পর্কের বিষয় কিছু না জানলেও বেলমনির স্বামী কিছুটা সন্দেহ করতেন এই সম্পর্কের ব্যাপারে। তবে তা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কখনও অশান্তিও হয়নি বলে বেলমনির স্বামী জানিয়েছেন। সম্পর্কের টানাপোড়েনেই কি তাহলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো এই যুগল? পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।



