“দামোদরের বুক ভরেছে পলিতে, কেন্দ্র ঘুমোচ্ছে” অভিযোগে ঘেরাও অভিযানে তিন মন্ত্রীর
আমার কথা, সনাতন গরাই, দুর্গাপুর, ১৭ অক্টোবর:
রাজ্যের আইন, বিচার ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক সরাসরি আঙুল তুললেন ডিভিসি ও কেন্দ্রের দিকে। ক্ষোভের সুরে বলেন, “যেদিন থেকে দামোদরের উপর ড্যাম তৈরি হয়েছে, সেদিন থেকে একবারও ড্রেজিং হয়নি।পলি জমে নদের জলধারণ ক্ষমতা এখন তিন ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। ফলে সামান্য জল উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে ডাউনস্ট্রিমে জল নামলেই মাইথন আর পাঞ্চেতকে ছাপিয়ে প্লাবন নামে। মারা যাচ্ছে মানুষ, গবাদি পশু, ডুবে যাচ্ছে চাষের জমি।” মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাজ্য হাত পাতলেও, কেন্দ্র চুপ। “ওরা বলে, তিন দিন জল থাকলেই ক্ষতিপূরণ। কিন্তু ততক্ষণে তো মানুষ মারা যায়, ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়।” এই দাবির ভিত্তিতে ডিভিসি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের অফিস ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন তিন মন্ত্রী, মলয় ঘটক, সেচমন্ত্রী মানষ ভূঁইয়া, এবং পঞ্চায়েত-গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। মন্ত্রী মানষ ভূঁইয়া সরাসরি কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, “কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ভেঙে দিয়েছে। দামোদরের ওপর সাতটি ড্যাম হওয়ার কথা ছিল, হয়েছে মাত্র পাঁচটি। তেনুঘাট এখনো ঝাড়খণ্ড সরকারের দখলে। কেন্দ্র শুধু রিপোর্ট দেখছে, ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এখনই ড্রেজিং না হলে দামোদর হয়ে উঠবে মৃত্যুফাঁদ।”একই সুরে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, “কেন্দ্রীয় বঞ্চনা আর উদাসীনতার প্রতিবাদেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই রাজ্যজুড়ে আন্দোলন।” এদিকে, একই দিনে দুর্গাপুর ব্যারেজের সামনে পালটা বিক্ষোভে নামে বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, “তৃণমূল সরকার ইচ্ছে করে ব্যারেজ ভাঙার চেষ্টা করছে।”
এই অভিযোগকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন মলয় ঘটক বলেন, “আগে পলি তুলে ব্যারেজের সংস্কার করুন, তারপর আন্দোলনের কথা বলুন। ফাইল নিয়ে রাজনীতি করলে দামোদর সবাইকে গিলে ফেলবে।”



