সিটিসেন্টারে টাকা, গয়না চুরি করে ধরা পড়ল পালিত কন্যা সহ দিল্লির প্রেমিকা
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৮ মার্চঃ
ভালবাসার সুযোগ নিয়ে বাড়ির মালিককে লুটে নিতে গেছিল পরিচারিকার মেয়ে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। ঠাঁই হল শ্রীঘরে। অপরাধের সঙ্গী সহ পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত দীপা ওরফে দীপু(২২) শর্মা।
দুর্গাপুরের আলাউদ্দিন খাঁ বীথির বাসিন্দা সঞ্জীব কুমার শর্মা পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসুত্রে তিনি ভিনরাজ্যে থাকেন। বাড়িতে থাকেন সঞ্জীববাবুর স্ত্রী নাগমনি শর্মা ও সঞ্জীববাবুর বাবা মা। সঞ্জীববাবুর বাড়ির পরিচারিকার মেয়ে দীপা। বয়স যখন ১১, সেই সময় এই বাড়িতে মায়ের সাথে আসে সে। তখন থেকেই তাঁকে আপন করে নেন সঞ্জীববাবুর পুরো পরিবার। বলতে গেলে এক প্রকার পালিত কন্যার মতোই বড় হতে থাকে দীপা। মুল্যবান মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে দামি সাইকেল, নামি দামি ব্র্যান্ডের পোশাক সবই কিনে দেওয়া হতো দীপাকে। কিন্তু এই দীপাই যে বড় হয়ে এই পরিবারের পিঠে ছুরি মারবে তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি শর্মা পরিবার। শর্মা পরিবার সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাজারে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে দেখেন আলমারি থেকে টাকা প্যসা, গয়নাগাঁটি সমস্ত কিছু উধাও। এদিকে দীপা জানায় সে কিছু জানে না। নাগমনিদেবী এরপর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সাথে তিনি পুলিসকে জানান, ২৫ ভরি সোনার গয়না, ১ কেজি রূপোর গয়না ও নগদ ২লক্ষ টাকা গায়েব হয়েছে আলমারি থেকে। পুলিশ তদন্তে নেমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে দীপা শর্মাকে। দীপার মোবাইলের কল লিস্ট চেক করে তাঁর বান্ধবী দীপা যাদবের সন্ধান পায় পুলিশ আর এই চুরির ঘটনায় যোগ রয়েছে দীপা যাদবের। এরপরেই পুলিশ লোকেশন ট্র্যাক করে দুর্গাপুর স্টেশনের ৩নং প্ল্যাটফর্মে গ্রেফতার করে দীপার বান্ধবীকে। সাথে টাকা ও গয়না উদ্ধার করে পুলিশ। সম্ভবতঃ চুরির মালপত্র সহ ট্রেনে করে পালানোর মতলবে ছিল দীপা যাদব। প্রসঙ্গতঃ দীপা যাদব ও ডীপা শর্মা দুজনেই দিল্লীতে থাকে। দীপা শর্মা ওরফে দীপু দিল্লিতে কাজ করে আর সেখানেই পরিচয় হয় দীপা যাদবের সাথে। দিন চারেক আগে দিল্লি থেকে দীপাকে ডেকে পাঠায় দীপু। দীপা যাদব সিটিসেন্টারের একটি বেসরকারি হোটেলে এসে ওঠে। দিপু চুরির মালপত্র ওই হোটেলে এনে দীপার হাতে তুলে দেয়। সাথে ট্রেনের টিকিটও কেটে দেয় দিল্লি ফিরে যাওয়ার জন্য। জানা গিয়েছে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে, যার প্রমানও মিলেছে দুজনের মোবাইল ঘেঁটে।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি(পূর্ব) অভিশেক গপ্তা জানান, “সিটিসেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এর আগে এই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ খুব দ্রুততার সাথে অভিযুক্তদের ধরতে পেরেছে সাথে সমস্ত চুরি যাওয়া মালও উদ্ধার করতে পেরেছে”।



