পণের শিকার? দুর্গাপুরে গৃহবধূর মৃত্যুতে গ্রেফতার স্বামী শাশুড়ি
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১ জুনঃ
এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু আর সেই মৃত্যুর পেছনে হাত রয়েহে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের এই অভিযোগে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হল। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের গোপালমাঠ এলাকায়। শোকে ভেঙে পড়েছে গৃহবধূর পরিবার।
বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বাসিন্দা সঞ্জয় বৈরাগ্যের মেয়ে মেঘা বৈরাগ্য(২৪) এর সাথে বছর ছয়েক আগে ২০১৯ সালে দুর্গাপুরের গোপালমাঠের বাসিন্দা বিধান দাসের সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১ লক্ষ টাকা নগদ, ৪ ভরি সোনার গয়না অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক দেওয়া হয়।
মেঘার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম থেকে তাঁদের মেয়ের উপর শাশুড়ি ও বিবাহিতা ননদ অত্যাচার করলেও জামাই ঠিক ছিল। কিন্তু মেয়ের এক পুত্র সন্তান হওয়ার পর থেকে জামাইও মেয়ের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করেছিল। তাঁরা আরো ১ লক্ষ টাকা নগদ চাইছিল। বিয়ের দেড় বছর পর তাও দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও অত্যাচার বন্ধ হয়নি। একবার মেয়েকে প্রচন্ড মারধর করার পর আমরা মেঘাকে আমাদের কাছে নয়ে আসি। মেয়ে জামাইয়ের ডিভোর্সেরও কথা উঠেছিল। কিন্তু তখন জামাই ক্ষমা চেয়ে নিয়ে মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ওরা আমার তিনজনে মিলে আমার মেয়েকে খুন করেছে।
মেঘার বাবা জানান, গতকাল আমার জামাই ফোনে জানায় আমার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা সাথে সাথে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি আমাদের মেয়ে মারা গেছে। কিন্তু আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, কারন ওর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে ওরা আমাদের মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, মেঘার স্বামী বিধান দাস, শ্বশুর নিত্যগোপাল দাস, শাশুড়ি অঞ্জলি দাস, ননদ সুপ্রিয়া মুখার্জি ও ননদাই অনুরাগ মুখার্জির নামে।
পুলিশ স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



