ভেদাভেদের কারণে নিজেরা দুর্গাপুজো শুরু করে সরপি গ্রামের কর্মকার পরিবার
আমার কথা, সার্থক কুমার দে, লাউদোহা, ১৯ সেপ্টেম্বর:
দুর্গা পুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। এই পুজোর সাথে জড়িয়ে আছে বাঙালির পরম্পরা ঐতিহ্য । বর্তমান সময়ে সমস্ত সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সব বাঙালি সামিল হয় এই উৎসবে । কিন্তু অতীতে চিত্রটা ছিল অন্য রকম । সে সময় মূলত রাজা জমিদার অথবা সম্পন্ন ব্রাহ্মণ ও উঁচু জাতেরা দূর্গা পূজার আয়োজন করত । তপশিলিদের দিয়ে পুজোর আয়োজনের কাজ করানো হলেও পুজোর সময় তাদের মন্দিরে প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ । প্রতিমা দর্শন তাদের দূর থেকেই করতে হতো । সেই কারণে পরবর্তী সময়ে তপশিলি সম্পদায়ের মানুষজন সম্মিলিতভাবে অথবা এককভাবে দুর্গাপুজোর প্রচলন শুরু করে । সরপি গ্রামের কর্মকার পরিবারের দুর্গাপুজো তারই একটি উদাহরণ । পুজোটির সূচনা কে করেছিলেন তা জানা না থাকলেও কর্মকার পরিবারের দাবি তাদের পুজো প্রায় দুশো বছর আগে শুরু হয়েছিল । বর্তমানে তিনটি শরিক পরিবার রয়েছে, তারা পালা করে প্রতিবছর পূজোর আয়োজন করে । পুজোটি হয় শক্তমতে । সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী পরম্পরা অনুযায়ী হয় ছাগ বলি । আগে মন্দির ছিল ছোট পরিসরে । চলতি বছর মন্দিরটি সংস্কার করা হয় । শুক্রবার নবনির্মিত মন্দিরে আয়োজন করা হয় বিশেষ পুজো অর্চনার । পরিবারের সদস্য হেমন্ত কর্মকার বলেন বর্তমানে পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৭০ জন । প্রতিবছর পূজোতে সবাই অংশ নেয় । ফলে পুজো দিনগ পারিবারিক মিলন মেলার রূপ নেই ।




