জমি দখল, কেনাবেচা আটকাতে নিজের জমিতে বোর্ড লাগালো ইসিএল
আমার কথা, অন্ডাল, ৮ মে:
প্রস্তাবিত মধুজোড় কোলিয়ারি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসিএল। বৃহস্পতিবার ঐ এলাকায় পড়ে থাকা নিজস্ব জমিতে বোর্ড লাগালো সংস্থা। জমি দখল ও কেনাবেচা আটকাতেই সংস্থার এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
খনি সংস্থা ইসিএলের কাজোরা এরিয়ার মধুজোর খনি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে। পরিত্যক্ত খনির নিচে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ কয়লা। খোলা মুখ খনি করে সেই কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থা। উত্তোলনের বরাত দেওয়া হয়েছে বেসরকারি সংস্থাকে। শীঘ্রই বেসরকারি সংস্থাটি কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু করবে বলে খবর। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ প্রস্তাবিত খোলামুখ খনি সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিককালে জমি কেনাবেচার প্রবণতা বেড়েছে। দুটি বেসরকারি সংস্থা সেখানে শুরু করেছে বহুতল আবাসন প্রকল্প তৈরির কাজ। জমি হস্তান্তর ও আবাসন তৈরির বিরোধীতায় সরব হয়েছে স্থানীয় জমি মালিকদের নিয়ে গড়ে ওঠা “কৃষি জমি জীবন জীবিকা কমিটি” এর সদস্যরা। সংগঠনের বক্তব্য প্রস্তাবিত খোলা মুখ খনি এলাকায় যে বা যারা আবাসন ও জমি কিনে ঘর বাড়ি করবে অদূর ভবিষ্যতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হবে। অবিলম্বে এই এলাকায় জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিএলআরও সহ বিভিন্ন দপ্তরের স্মারকলিপি ও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসিএলের কাজোরা এরিয়ার আধিকারিকেরা সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করতে আসেন। পরিদর্শনের সময় সংস্থার পড়ে থাকার নিজস্ব জমি চিহ্নিত করে সেইসব জমিতে বোর্ড লাগানো হয়। কাজোরা এরিয়ার এজিএম অসীম মন্ডল বোর্ড লাগানো বিষয়ে বলেন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোন কোন জমি ইসিএলের তা সাধারণকে অবগত করার জন্যই বোর্ড লাগানো হলো। তিনি আরও বলেন আগামী দিনে এখানে একটি খোলামুখ খনি হবে। শীঘ্রই সে বিষয়ে স্থানীয়দের অবগত করার জন্য প্রচার চালানো হবে। কৃষি জমি জীবন জীবিকা কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল পাল বলেন আরও আগে বোর্ড লাগানো উচিত ছিল সংস্থা। বোর্ড দেখে এবার মানুষ সতর্ক হবে। না জেনে বুঝে যারা এখানে জমি ও আবাসন কিনে বসবাস করার কথা ভাবছে ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবে। দেরিতে হলেও ইসিএল সংস্থার বোর্ড লাগানোকে নিজেদের সংগঠনের জয় বলে দাবি করেন উজ্জ্বল বাবু।




