মেয়ের জন্মদিনে বাবার রহস্য মৃত্যু, রাস্তা থেকে উদ্ধার দেহ
আমার কথা, পানাগড়, ২৮ জুলাইঃ
সোমবার ছিল মেয়ের জন্মদিন,দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে পানাগড় বাজারের গুরুদুয়ারা এলাকায় তার ছোট সংসার। সংসারের চালাতে হোটেলে কাজ করতে শুরু করেন দীর্ঘদিন ধরে।কাঁকসার রাজবাঁধের একটি হোটেলের বাইরে গার্ডের কাজ করতেন বছর ৫০ এর দীনেশ দুবে।তার কাজ ছিলো হোটেলের বাইরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে যে সমস্ত গাড়ি ও লরি যাতায়াত করে তাদের ইশারা করে বোঝানো যে, পিছনে হোটেল রয়েছে সেখানে খাওয়ার পাওয়া যায়। তার ইশারাতে অনেক লরি বা ছোট গাড়ি দাঁড়াতো হোটেলের সামনে। গাড়ির আরোহীরা হোটেলে খাওয়ার খেতে ঢুকলে তাদের গাড়ি পাহাড়া দেওয়ার কাজও ছিল তার। বদলে যে সমস্ত গাড়ি গুলি পাহারা দিতো সেই সময়টা গাড়ির মালিকরা কিছু অর্থ তাকে বকশিস হিসেবে দিতো।সেটাই ছিলো তারা হোটেলের মাইনের পর উপরি কিছু রোজগার। তাই দিয়েই কোনো মতে চলতো তার সংসার। মেয়ের আবদারে তাকে জন্মদিনে মোবাইল কিনে দেবেন বলেছিলেন। কিন্তু একটা মোবাইল কিনতে তাও প্রায় ১৫ হাজার টাকার কিছু কম না।তাই হোটেল মালিককে জানালে হোটেল মালিক তার হাতে ১০ হাজার টাকাও তুলেও দিয়েছিল। বাকি টাকা দিয়ে মেয়ের জন্য মোবাইল কিনতে যাওয়া হবে,সেটাই মেয়ের জন্মদিনের উপহার হবে। সোমবার দিনের আলো ফুটতেই সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। সকাল হতেই হোটেলের কর্মীরা লক্ষ করেন দীনেশ দুবে রাস্তার ধারে পড়ে আছেন। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়া হয়।হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কাঁকসা থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অন্যদিকে হাসপাতালে পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।
হোটেলের মালিক গগন দীপ সিং জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মত রবিবার রাতেও তিনি ডিউটি করছিলেন। রাত প্রায় তিনটে থেকে সাড়ে ৩টের পর তাকে আর দেখা যায়নি।সবাই ভেবেছিল সে হয়তো রাস্তায় ডিউটি করছে। পরের দিনের আলো ফুটতেই তাকে রাস্তার একটা ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনুমান করা হচ্ছে রাস্তার ধারে যে সমস্ত লরি দাঁড়ায় সেগুলি হয়তো পিছনে ঘোরার সময় তাকে ধাক্কা মেরে চলে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে মৃত অবস্থায় সে সেখানেই পড়ে ছিল। তিনি জানিয়েছেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন দীনেশ। মেয়ের জন্মদিনের দিনেই গোটা পরিবারের উপর যেন বজ্রাঘাত হল। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন মেয়ের জন্মদিনের দিনে মোবাইল কিনে দেবে বলে তাকে টাকাও তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু জন্মদিনটা আর পালন করতে পারলেন না।




