পুরনো ঐতিহ্য মেনে আজও হয় উখরা গ্রামের দক্ষিণাকালীর পুজোর আয়োজন
আমার কথা, সার্থক কুমার দে, অন্ডাল, ১৭ অক্টোবর:
ঐতিহ্য পরম্পরা ও জমকালো আয়োজনের জন্য বিখ্যাত উখড়া গ্রামের দক্ষিণাকালী পুজো । গ্রামের ব্যানার্জী পাড়াতে রয়েছে দক্ষিণাকালীর মন্দির । ২৫৩ বছর আগে উখড়া গ্রামের ব্যানার্জী পাড়াতে শুরু হয় দক্ষিণাকালীর পুজো । এই পুজোর সূচনা করেন পরিবারের পূর্বপুরুষ প্রয়াত দীনবন্ধু মুখোপাধ্যায় ও বেণীমাধব মুখোপাধ্যায় । তারা সম্পর্কে সহোদর ভাই ছিলেন । পরিবারটির আদি বাড়ি ছিল দুর্গাপুরের ভরতপুর এলাকায় । সেই ভিটে ছেড়ে উখরা গ্রামে বসবাসের জন্য আসার সময় পূর্বপুরুষরা সাথে করে নিয়ে আসেন পরিবারের কুলোদেবতা দক্ষিণেশ্বর কালীর বিগ্রহ । এখানে মন্দির তৈরি করে সেই মন্দিরে দক্ষিণা কালীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয় পুজো । কালী প্রতিমার বাঁ পা পেছনে ও ডান পা টি সামনের দিকে থাকে তাই এই কালি দক্ষিণাকালী নামে পরিচিত ।
পরিবারের বয়স্ক গৃহবধূ বছর একাত্তরের মীনা মুখার্জি জানান পুজোর সব কাজে পুরুষদের পাশাপাশি বাড়ির মহিলারাও অংশ নেয় । আলপনা আঁকা থেকে প্রসাদ ভোগের আয়োজন সবই করে থাকে বাড়ির মহিলারা । সূচনাকাল থেকে দীর্ঘদিন পুজোর আয়োজন হত ঘরোয়া ও ছোট পরিসরে । এখন অবশ্য পুজোর আয়োজনের পরিধি অনেক বড় হয়েছে । এবছর ২০-শে অক্টোবর সোমবার রাতে পুজো । প্রতিমা নিরঞ্জন হবে পরের দিন । ঐ দিন দুপুরে পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয়-পরিজন বন্ধু বান্ধবদের আমন্ত্রণ করে পাত পেরে ঠাকুরের ভোগ খাওয়ানো হয় দুপুরে । প্রতিবছর দক্ষিণাকালীর পুজো ঘিরে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠান এই বছরও যার ব্যতিক্রম হচ্ছে না । থাকছে সানাই ও বাঁশি বাজানোর প্রতিযোগিতা । কবিগানের আসর । এবারও বিসর্জনের শোভাযাত্রাতে রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ । থাকছে আলোক রশ্মির বিচ্ছুরণ । দক্ষিণ ভারত থেকে আসছে বিখ্যাত বাদ্যযন্ত্রের দল । সঙ্গে থাকবে মুখোশধারী শিল্পীদের নৃত্যের দল । জমকালো আয়োজনের কারণে দক্ষিণাকালী পারিবারিক পুজো হলোও বিসর্জনের দিন শোভাযাত্রায় যোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দারাও । বিসর্জন হয় গ্রামের সুকোবাঁধ পুকুরে । পুকুরপাড়ে আলোর রশ্মির প্রদর্শনী হয় ।



