পশ্চিম বর্ধমানে নজরকাড়া তিনটি কেন্দ্রে হেভিওয়েট লড়াই
আমার কথা, ২৫ মার্চ
সার্থক কুমার দে, পশ্চিম বর্ধমান:
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় রয়েছে ৯-টি বিধানসভা কেন্দ্র। এর মধ্যে আসানসোল দক্ষিণ, পাণ্ডবেশ্বর আর দুর্গাপুর পশ্চিম এই তিনটি কেন্দ্রে এবার জোর লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। শাসকবিরোধী হেভিওয়েট প্রার্থীদের কারণেই এই কেন্দ্রগুলিতে এবার জমজমাট লড়াই হবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
রাজ্যে ২৯৪ টি আসনের মধ্যে এবার হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র হিসেবে ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রটি। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়ছেন বিধানসভায় বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এরকম আরও বেশ কিছু নজর কারা কেন্দ্র। পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর আসানসোল দক্ষিণ দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রগুলিও এবার নজর করা কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা এই কেন্দ্রগুলিতে এবার জোর লড়ায়ের সম্ভাবনা রয়েছে শাসক ও বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে। জেলায় হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র গুলির মধ্যে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রটি অবশ্যই রয়েছে উপরের সারিতে। এখানে গতবারের মতো এবারও সম্মুখ সমরে লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আর বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। ২০১৬ সালে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন জিতেন্দ্র বাবুম সেই সময় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ছিলেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। পরবর্তী সময়ে তারা দু’জন এক দলে থাকলেও সম্পর্ক ছিল অম্ল মধুর। ২০২১ এর বিধানসভার ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি দলে নাম লেখান জিতেন্দ্র বাবু। তিনি পদ্মফুল প্রতীকে প্রার্থীও হন। তার বিপরীতে দাঁড়ান জোড়া ফুল প্রতীকে নরেন্দ্রনাথ বাবু তিন হাজারের সামান্য কিছু বেশি ভোটে জিতেন্দ্রর তেওয়ারিকে পরাজিত করে বিধায়ক হন নরেন বাবু। তবে লড়াই এখানেই শেষ হয়নি। গত পাঁচ বছরে একে অপরের বিরুদ্ধে মন্তব্য পাল্টা মন্তব্য আক্রমণ প্রতি আক্রমণ করে গেছেন একে অপরকে। গতবার এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাই ভোল্টেজ লড়াই দেখেছে এলাকাবাসী এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
দ্বিতীয় যে কেন্দ্রটি নিয়ে বিশ্লেষকদের আগ্রহ রয়েছে সেটি হল আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১-এ এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে বিধায়ক হন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল । ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় । কিন্তু ২১ সালে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রানীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। সেখানেও তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবার শাসক দল তাকে প্রার্থী করেছে তার পুরনো কেন্দ্র আসানসোল দক্ষিণে। উদ্দেশ্য একটাই বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালকে পরাজিত করা। সেই উদ্দেশ্যেই অপরাজিত তাপস বাবুকে এবার সেখানে প্রার্থী করেছে শাসকদল, বলে মত বিশ্লেষকদের। প্রথম দুটি কেন্দ্রের মতো এবার ভোটার ও ভোট বিশ্লেষকদের বিশেষ নজর রয়েছে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে। ২০১১ তে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের অপূর্ব মুখোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে জোট প্রার্থী হিসাবে কংগ্রেস প্রতীকে এই আসন থেকে জয়লাভ করেন বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। ২০২১ সালে বিশ্বনাথ পাড়িয়াল শিবির বদল করে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হন। তবে তিনি পরাজিত হন বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘুড়ুই এর কাছে। এবারও এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে লক্ষণ ঘড়ুইকে । উল্টোদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্তকে । বিজেপি যেমন এই আসনটি ধরে রাখতে লক্ষণ বাবুকেই পুনরায় প্রার্থী করেছে ঠিক তেমনি বিজেপির হাত থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিতে কবি দত্তকে প্রার্থী করছে শাসক দল বলে মত বিশ্লেষকদের । তাদের মতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এই কেন্দ্রে গতবার জোড়া ফুল ফুটেনি । প্রার্থী কবি দত্ত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত । মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বর্তমানে কবি বাবু দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও। তিনি কোন গোষ্ঠীর নন আবার সবাইকে নিয়ে চলতে পারার দক্ষতা রয়েছে তার । ব্যবসায়ী, ক্রীড়া, সংস্কৃতি সহ সব মহলেই তার অবাধ বিচরণ। সেই কারণেই এই আসনটি জিততে তৃণমূলের সেরা বাজি তিনিই বলে মত বিশ্লেষকদের। বিজেপি প্রার্থীর লক্ষণ বাবু পরিচিত রাজনৈতিক মুখ উল্টোদিকে কবি বাবু এলাকায় জনপ্রিয় মুখ । আর সেই কারণে এবার এই কেন্দ্রটিতে ভোট প্রচারের লড়াই জমে উঠেছে । এই কেন্দ্রে শেষ হাসি কে হাসবে তা সময় বলবে তবে দুই প্রার্থীর জমজমাট লড়াইয়ের কারণে দুর্গাপুর পশ্চিম এবার নজর কারা কেন্দ্রের তকমা পাচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।



