অপরাধের আস্তাকুড় এই পরানগঞ্জের জঙ্গল? এখানেই নানা অপরাধের পরিকল্পনা করতো ফিরদৌস?
আমার কথা, সনাতন গরাই, দুর্গাপুর, ১৬ অক্টোবর:
সন্ধ্যা নামলেই জঙ্গলের অন্ধকারে শিয়াল, নেকড়ে, হায়না এবং বিষধর সাপ ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এবার সেই অন্ধকারে গর্জে উঠলো মানুষেরই হিংস্রতা। দুর্গাপুরের পরাণগঞ্জের ঘন জঙ্গল, উখড়া রেঞ্জের অন্তর্গত, জেমুয়া ও কাঁকসার গড়ের কাছাকাছি সেই জঙ্গলে ঘটে গেল এক চিকিৎসক পড়ুয়া তরুণীর ওপর গণধর্ষণ। এই জঙ্গলগুলো শুধু বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল নয়, পাশেই রয়েছে বেশ কিছু গ্রাম এবং শহরের শেষ প্রান্ত, যেখানে সাধারণ মানুষ বসবাস করে। নাম প্রকাশ করতে চাইছে না এমন স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ করছেন, জঙ্গলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল অপরাধমূলক কার্যক্রম। তারা জানাচ্ছেন, জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত একটি শ্মশান ছিল বহিরাগতদের জন্য অবাধ যাতায়াতের কেন্দ্র। ওই শ্মশানে যুবকরা মাদক সেবন করত, এবং অনেকেই সেখানে আসক্ত হয়ে পড়ত। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক স্থানীয় গালাগালিও খেতে হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই যুবকরা প্রবেশ করত জঙ্গলে, মাদক সেবন ও সরবরাহের জন্য। সেই জন্য এই গ্রামের মানুষজন রাতে আর সেই পথ অনুসরণ করত না। চুরি ছিনতাই এর ঘটনাও ঘটতো। কেউ কেউ বলছেন, এখানে গাছও চুপিচুপি কাটা হত এবং পাচার হত। পুলিশ ধৃতদের জেরা করে তদন্ত চালাচ্ছে। সূত্রের খবর, ধৃত বিজড়া এলাকার পাঁচ জনের মধ্যে অধিকাংশ জন বিজড়ায় খেলার মাঠে একটি মাচা রয়েছে সেখানে আড্ডা মারতো। সন্ধ্যায় বিজড়া থেকে শোভাপুর হয়ে পরানগঞ্জের জঙ্গলে যেত। তার আগে ওই মাচায় বসে আলোচনা করেই সন্ধ্যায় অপরাধমূলক কাজকর্ম করত। ফিরদৌস প্রতিদিন পরিকল্পনা করতেও তার সঙ্গীদের নিয়ে। এলাকার বেশিরভাগ মানুষের সাথে ফিরদৌসের মনোমালিন্য রয়েছে। অনেকের সাথে ঝামেলাও করতো মাঝেমধ্যে। তবে একটা প্রশ্ন শহরের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ তুলছেই, মাদক সেবন করে এইসব অপরাধচক্র চলত। তাহলে মাদক বিক্রি হত কোন দোকান থেকে? বহিরাগত কেউ সরবরাহ করতো? নাকি স্থানীয় কোন দোকান থেকে পাওয়া যেত? মোহনবাগান এভিনিউতে নগর নিগমের লাগানো লাইটের থেকেও বিদ্যুৎ কানেকশন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতো। সেই লাইটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন কারা করত সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।



