BREAKING! ফের গ্রেফতার ‘কেবু’, এবার বালি নয় পাওয়া গেল অবৈধ তামা
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৩ এপ্রিলঃ
ফের গ্রেফতার হল কুখ্যাত মাফিয়া কেবু ওরফে সুজয় পাল। তবে এবারে অবৈধ বালি কারবারের জন্য নয়। এবারে তাঁর গড়ি থেকে উদ্ধার হয় অবৈধ তামা ও আগ্নেয়াস্ত্র। দুর্গাপুর থানার পুলিশ কেবুকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে দুর্গাপুরের গান্ধী মোড়ে যখন নাকা চেকিং চলছিল সেই সময় কালো রঙের একটি গাড়ির পথ আটকায় পুলিশ। নিয়ম মাফিক অন্যান্য গাড়িগুলির সাথে সুজয় পালেরও গাড়ি তল্লাসী করার সময় পুলিশ গাড়ির ডিকিতে প্রচুর তামার তার দেখতে পায়। ওই তারের পরিমাণ প্রায় দেড় কুইন্টাল। এত তার কোথা থেকে এলো আর সেগুলি সে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কেবু সেভাবে সদুত্তর দিতে পারেনি। কথায় অসঙ্গতি মেলে। এরপরেই পুলিশ তাঁকে তল্লাশী চলালে মেলে একটি অত্যাধুনিক পিস্তল। এরপরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
প্রসঙ্গতঃ ২০২১ সালের আগস্ট মাসে নিউটাউনশিপ থানার পুলিস কেবুকে গ্রেফতার করেছিল। অভিযোগ ছিল নিউটাউনশিপ থানার অন্তর্গত সুভাষপল্লী এলাকার বাসিন্দা কেবু অবৈধ বালি কারবারের সাথে যুক্ত। কাঁকসার অজয় ঘাট-সহ বেশ কয়েকটি ঘাট থেকে নিজস্ব নেটওয়ার্ক দিয়ে অবৈধ উপায়ে বালি তুলে পাচার করে এই কেবু ৷ ধীরে ধীরে এই অন্ধকার জগতের বেতাজ বাদশা হয়ে বসেছিল সে ৷ বেশ কিছুদিন ধরে এই কেবুকে ধরার জন্য আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ওৎ পেতে বসেছিল ৷ ডিভিসি মোড় সংলগ্ন একটি মন্দির থেকে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তখনও তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘আমি ঠিকাদার। মিথ্যা মামলায় আমাকে ধরা হয়েছে।’’ লকডাউন এবং সেই সময় বেআইনি কয়লা-ক্ষেত্রে কড়া নজরদারির ‘সুযোগে’ বালির অবৈধ কারবারের কার্যত ‘মাথা’ হয়ে ওঠেন এই সুজয় পাল ওরফে কেবু। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে বালি পরিবহণের পদ্ধতিও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত বলে পুলিস সুত্রে জানা গিয়েছে। অবৈধ বালির প্রতিটি গাড়ির ‘সুষ্ঠু পরিবহণের’ জন্য কেবুকে চার হাজার টাকা করে দিতে হত বলে অভিযোগ। ২০২১ সালে গ্রেফতারের পর জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন কেবু। এরপর ২০২৩ সালে এডিডিএ-র দেওয়া পার্কিং এর টেন্ডারে সিটিসেন্টারের বেশ অনেকটা পার্কিং লটের বরাত পায় কেবুর কোম্পানী। তখনও বিতর্ক পেছন ছাড়েনি কেবুর। পার্কিং লটের বরাত হাতে পাওয়ার আগে থেকেই ওই সব জায়গা থেকে পার্কিং এর জন্য এডিডিএ এর নামে টিকিট ছাপিয়ে টাকা তুলতে শুরু করেছিল কেবুর সংস্থা। শুধু তাই নয় অভিযোগ উঠেছিল ওই সব পার্কিং লটে মোটা টাকার বিনিময়ে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দিয়েছিল কেবুর সংস্থা। এরপর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বরাতের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও পার্কিং এর নামে টাকা নিচ্ছিল এই কেবুর সংস্থা। এবার চলতি বছরে আবারও শ্রীঘরে যেতে হল সুজয়বাবুকে। তবে এবারে অবৈধ বালি কারবার নয়, বরং ধাতুর অবৈধ কারবারের বিষয়টি সামনে আসে। প্রশ্ন তাহলে কি বালিতে খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে ধাতুর কারবারে নাম লিখিয়ে ছিলেন তিনি? যদি শিল্পাঞ্চল ও খনি এলাকায় কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছিল সম্প্রতি ফের বালির অবৈধ কারবারেও খাতা খুলে ফেলেছিলেন তিনি।



