প্রাক্তন পুরমাতার নথি জাল করে এবার জমি কেলেঙ্কারি দুর্গাপুরে
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৬ মেঃ
জমি মাফিয়া চক্র যে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এখনও সক্রিয় রয়েছে তা আবারও প্রকাশ্যে এলো। শুধু তাই নয় এই চক্রে প্রশ্ন উঠছে সরকারী দপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের ভূমিকা নিয়েও। এই চক্রের কারসাজিতে কখনও জীবিত ব্যাক্তিকে মৃত সাজিয়ে নথি জাল করে জমি বিক্রি করে দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারী জমিও এই চক্রের মাঝে পড়ে বেহাত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। তবে এবারে খোদ প্রাক্তন পুরমাতার নামাঙ্কিত প্যাড জাল করে তাকে কাজে লাগিয়ে এক ব্যাক্তির জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই চক্ষু চড়ক গাছ প্রশাসনিক কর্তা ব্যাক্তিদের। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার অন্তর্গত নডিহার বাসিন্দা সৌভিক ব্যানার্জি জানান, তাঁর বাবা তপন ব্যানার্জির তিন কাঠা একটি জমি আছে। তপনবাবু যখন বেঁচে ছিলেন, সেই সময় সেই জমিটির নথি জাল করে তপনবাবুকে মৃত দেখিয়ে ২০২১ সালে জাল দলিল বানিয়ে তা পরমেশ্বর রায় নামে এক ব্যাক্তিকে তপনবাবুর নাতি দেখিয়ে তাঁর নামে জমিটি দেখিয়ে তা প্রবীর রায় নামে এক ব্যক্তিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আর এই কারচুপি করার জন্য ১২ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমুল পুরমাতা ববিতা মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত প্যাড ব্যবহার করা হয়। এরপর বিষয়টি জানতে পারেন তপনবাবুর পরিবার। এর মধ্যে বিষয়টি জানতে পারেন ববিতা মুখোপাধ্যায়ও। যোগাযোগ হয় সৌভিকবাবাউর সাথে ববিতাদেবীর। জালিয়াতির বিষয়টি জানার পরেই ববিতাদেবী দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেফতার হয় এই চক্রের এক পান্ডা বেনাচিতির বাসিন্দা বিদ্যুৎ চট্টোপাধ্যায়। জেরাতে জানা যায়, ধান্ডাবাগে একটি দোকানে পুরমাতার প্যাড ও স্ট্যাম্প জাল করা হয়। সেই জাল প্যাড ব্যবহার করা হয় কারচুপি করে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে।
এখন প্রশ্ন উঠছে এই জমি জালিয়াতি কান্ডে কি ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের কোনো যোগ সাজস আছে? নাহলে কিভাবে এই জাল নথি কিভাবে সরকারী দপ্তর সমস্ত নিয়ম অতিক্রম করে কেনাবেচার কাজ চালাচ্ছে জমি মাফিয়ারা?
প্রাক্তন পুরমাতা ববিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি বিষয়টির শেষ দেখে ছাড়বো। এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে মন্ত্রী, সাংসদ সকলের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি”।
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একজন প্রাক্তন পুরমাতার নাম ব্যবহার করে এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসাতে হয়ত প্রশাসন নড়ে বসেছে। কিন্তু এই শহরে খোঁজ নিলে জানা যাবে এরকম অনেক মানুষ আছেন যারা তাঁদের সারা জীবনের পুঁজি লাগিয়ে জমি কিনেছেন, আর তাঁরা হয়ত জানেন না যে তাঁদের অজান্তে তাদেরই সেই জমি বেহাত হয়ে বসে আছে। কিন্তু শহরের বুকে এত বড় জমি জালিয়াতি করছে জমি মাফিয়ারা দিনে দুপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায়। প্রশাসন কি সত্যিই কিছু জানে না, নাকি না জেনেও ভাত ঘুম দিয়েছে?



