রাজাদের আমল থেকে বসবাস তারপরেও শুনানিতে ডাক গড় জঙ্গলের আদিবাসীদের
আমার কথা৷ সনাতন গরাই, কাঁকসা, ১৫ জানুয়ারী:
এই মাটিতে তাদের আসা নতুন নয়। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে রাজা লক্ষণ সেনের আমল থেকেই কাঁকসার গড় জঙ্গলের মাটি চেনে তাদের পায়ের ছাপ। শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় এখানেই বসবাস আদিবাসীদের। লাঙল চালিয়ে, মাটি কেটে, ঘামে ভিজিয়ে ফলিয়েছে ফসল। এই মাটিই তাদের ঘর, এই মাটিই তাদের পরিচয়।ওরা জনজাতি কাগজে নয়, জীবনে। কাঁকসা থানার অন্তর্গত মলানদিঘির হরিকি এলাকার বাসিন্দা মঙ্গলি মুর্মু (৫৭)। আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মায়ের মুখে শুনেছিলাম, আগে এখানে কর্মকাররা থাকত। রাজাদের অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করত তারা। সেই সময় থেকেই আমাদের বসবাস। অথচ এখন শুনানিতে ডাকা হয়েছে। বলা হচ্ছে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা কোনওভাবেই ভিটেমাটি ছাড়ব না।” ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। মলানদিঘি অঞ্চল তৃণমূলের যুব সভাপতি তথা বিএলএ টু অনন্তরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশন এইভাবে আদিবাসীদেরও ভোগান্তির মুখে ফেলছে। তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর প্রতিবাদে নামব।” পাল্টা জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”একটাও বৈধ ভোটার যাতে বাদ না যায় সেই জন্য এসআইআর। তৃণমূলের এত লাফালাফি করার দরকার নেই। কারোর কাছে নথি না থাকলে কারোর নথিতে গোলযোগ থাকলে তাদেরকেই দাঁড়াতে হবে শুনানির লাইনে। তবে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ভাবে কাজ করছে।”



