মহিলা সাংবাদিক কে মারধরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন লকেটের
আমার কথা, ১৭ জানুয়ারী
তনুশ্রী চৌধুরী, কাঁকসা:
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হন এক মহিলা সাংবাদিক ও তার চিত্র সাংবাদিক। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলকাতার একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতি।গুরুতর আক্রান্ত হয়েছেন তার চিত্র সাংবাদিকও। ঝাড়খন্ড রাজ্যে এক ফেরিওয়ালা কে বেধড়ক মারধোর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ফেরিওয়ালা মুর্শিদাবাদ পৌঁছায়। গুরুতর আহত ওই ফেরিওয়ালা কে অ্যাম্বুলেন্সে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এলাকার মানুষ।শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেল লাইনেও বিক্ষোভ দেখায় বিক্ষোভকারীরা। ফলে সড়কপথে যান চলাচলের পাশাপাশি রেলপথেও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ঘটনার সময় খবর সংগ্রহ করতে যান মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতি। সেই সময় হঠাৎ বিক্ষোভকারীরা তার উপর চড়াও হয়। তাকে চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। কোনোমতে সেখান থেকে তিনি বেরিয়ে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা করান। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র নিন্দায় সরব হয় বিভিন্ন মহল। পাশাপাশি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শনিবার দুপুর তিনটে থেকে কাঁকসার বাঁশকোপায় একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্য বিজেপি সাধারণ সম্পাদিকা লকেট চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই, দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনার সন্তোষ মুখার্জী, পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।
বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, একজন সাংবাদিকের পেশা খবর সংগ্রহ করা। সেই কাজ করতে গিয়েছিলেন মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতি। তিনি বলেন যেভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে তার ওপর চড়াও হয়ে। এক কথায় এটা অশালীন আচরণ করা হয়েছে তার সাথে। এক প্রকার তাকে মেরেই ফেলা হতো। তার অভিযোগ, এই ঘটনা ঘটার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। পুলিশের সাহায্য চাওয়া হলেও পুলিশ কোনোভাবেই তাকে সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসার মত তাকে কোনো গাড়ির ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়নি। একটি টোটো তে চেপে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে টোটো চালককেও হুমকি দেওয়া হয়।। শনিবারও দুই সাংবাদিক কে মারধর করা হয়, একজন হলেন কৌশিক ঘোষ, অপরজন হলেন পলাশ মন্ডল। এবং একজন চিত্র সাংবাদিক কেষ্ট দত্ত আক্রান্ত হন। একের পর এক সাংবাদিক আক্রান্ত হচ্ছে বেলডাঙার ঘটনায়। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জুম্মা বারের অজুহাত দেন। তিনি জানিয়ে দেন জুম্মা বারে সবাই একসাথে উপস্থিত ছিল। উত্তেজনার পরিস্থিতি দেখলে দূর থেকে ছবি তোলার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রটেকশন না দিয়ে তাদের সেখানে যেতে বারণ করছেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন ষড়যন্ত্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বেলডাঙ্গায় আন্দোলনের জেরে উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী থেকে জনপ্রতিনিধি সকলেই হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। কারণ বাংলায় তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছে। এর আগে সি এ এ করার ঘোষণা হতেই আন্দোলনের নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়। ট্রেনের উপর হামলা চালানো হয়।ট্রেন লক্ষ করে পাথর ছোঁড়া হয়। টিকিট কাউন্টারে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে টিকিট কাউন্টার থেকে টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। বিগত দিনের ঘটনা সকলেই জানেন। আবার ওয়াকাফ বিল ঘোষণা হতেই মুর্শিদাবাদে ভয়ঙ্কর ভাবে তাণ্ডব চালিয়ে লুটপাট চালানো হয়। মহিলাদের উপর অত্যাচার করার পাশাপাশি তাদের জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। তখনো রাজ্য পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সমস্ত কিছু দেখেছে। যেভাবে একজন মহিলা সাংবাদিকের ওপর অত্যাচার হয়েছে তারপরেও সমাজ মাধ্যম হোক বা যেকোনো গণমাধ্যম কোথাও শাসক দলকে এর প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। তিনি দাবি করেন মহিলা সাংবাদিকের ওপর এবং অন্যান্য সাংবাদিকের ওপর যেভাবে আক্রমণ হয়েছে তাদের যাতে উপযুক্ত শাস্তি হয়। তিনি বলেন ৩০ ঘন্টা সময় লাগলো পুলিশকে লাঠি নিয়ে আসতে। এদিকে আন্দোলনকারীদের হাতে লাঠিসোটা অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। পুলিশকে একশন নিতে এত সময় কেন লাগল সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বি এল ও অশোক দাসের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বলেন তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা ব্যানার্জি এবং তার সাগরেদ রাজু বিশ্বাস ওই বিএলও কে আত্মহত্যার জন্য বাধ্য করেছে। কারণ তাকে রোহিঙ্গা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল না করার জন্য বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএলওরা তৃণমূলের চাপে কাজ করছে।তাদের বাধ্য করা হচ্ছে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম না কাটার জন্য। একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন তিনি বাংলা ভাগ চান না। এদিকে আন্দোলনের জেরে উত্তরবঙ্গ আর দক্ষিণবঙ্গ পুরোপুরি আলাদা হয়ে গিয়েছে।
যেভাবে একের পর এক নাম কাটা পড়ছে তাতে তৃণমূল স্পষ্ট বুঝে গেছে যে এবার ভোটে তাদের আর পার পাওয়া যাবে না।
একদিকে যখন জ্বলছে গোটা বেলডাঙ্গা। তখন মুর্শিদাবাদের সভা করছেন একদিকে সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যদিকে অন্য একটি জায়গায় সভা করছেন তৃণমূলের সাসপেন্ড বিধায়ক হুমায়ুন কবির। এই প্রসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, গোটাটাই হলো ষড়যন্ত্র একদিকে তৃণমূল অন্যদিকে হুমায়ুন আয়নার এপিঠ আর ওপিঠ।



