অজয় নদীর পাড়ে পৌষ সংক্রান্তি মেলার সাথে জড়িয়ে আছে মহাভারতের গল্প
আমার কথা, ১৪ জানুয়ারী,
সার্থক কুমার দে, দুর্গাপুর :
পাণ্ডবেশ্বরের অজয় নদীর পাড়ে পঞ্চপান্ডব মন্দির চত্বরে প্রতিবছর মকর সংক্রান্তিতে বসে পৌষ মেলা। এই মেলার সাথে জড়িয়ে আছে মহাভারতের ও পঞ্চপান্ডবের কথা।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে অজয় নদী। নদী পাড়ে বাঁ হাতে রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলেই সেখানে রয়েছে পঞ্চপান্ডব মন্দির। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে এই মন্দির কে ঘিরে বসে পৌষ মেলা। বুধবার সূচনা হল মেলার। উদ্বোধন করলেন স্থানীয় বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন পাঁচড়া গীতা ভবনের অধ্যক্ষ স্বামী সত্যানন্দ মহারাজী, উখরা মহন্ত অস্তল মঠের অধ্যক্ষ নারায়ণ স্মরণদেব মহারাজ সহ অন্যরা। মেলা চলবে শনিবার পর্যন্ত। এই মেলার সাথে মহাভারতের পঞ্চপান্ডবের অজ্ঞাতবাস পর্বের ঘটনা জড়িয়ে আছে । কথিত আছে অজ্ঞাতবাসের সময় বিভিন্ন জায়গা ঘুরে পঞ্চপান্ডব একসময় এসে পৌঁছান পাণ্ডবেশ্বরের অজয় নদীর তীরে। নদীর ধারে ঘন জঙ্গলে পর্ণকুটির তৈরি করে বেশ কিছু সময় তারা সেখানে বসবাস করেন। ইতিহাসবিদদের দাবি পঞ্চ পাণ্ডবরা সেখানে দেবতাদের উদ্দেশ্যে পুজো করতেন । বহুকাল পড়ে সেখানে একটি ঢিপি (উঁচু স্থল) আবিষ্কৃত হয়। সেটাই পঞ্চপান্ডবের পূজাস্থল বলে কথিত আছে। সেই ঢিপিকে ঘিরে পরবর্তীকালে তৈরি হয়েছে মন্দির। জায়গাটির নামকরণ হয়েছে পঞ্চপান্ডব মন্দির বলে। মন্দিরে অন্যান্য দেবদেবীর পাশাপাশি পঞ্চপান্ডবের মূর্তিও রয়েছে। বহু বছর আগে সেই মন্দিরকে ঘিরেই প্রতিবছর সংক্রান্তিতে বসে পৌষ মেলা। বুধবার সংক্রান্তির ভোরে মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে অসংখ্য ভক্ত পুণ্য স্নান সারেন। বর্তমানে এই মেলা পরিচালনার করে রামনগর পল্লী উন্নয়ন সমিতি। সমিতির কর্মকর্তা পিন্টু মণ্ডল বলেন পঞ্চপান্ডবের স্মৃতি বিজড়িত এই মেলা, তাই প্রতিবছর কয়েক লক্ষ মানুষ মেলাতে ভিড় জমান। স্থানীয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি যমুনা ধীবর বলেন পুণ্যার্থীদের স্বাচ্ছন্দের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মেলাতে শৌচাগার, পানীয় জলের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি নদীর ঘাটে দুর্ঘটনা এড়াতে করা নজরদারির ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।



