ভিন রাজ্যে আটক অন্ডালের আদিবাসী শ্রমিক
আমার কথা, অন্ডাল, ১৭ আগস্ট:
সংবাদদাতা: সার্থক দে
কাজের খোঁজে উত্তর প্রদেশ পাড়ি দিয়েছিল অন্ডালের যুবক। ভাষা সমস্যার কারণে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশ থেকে আটক যুবককে উদ্ধার করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, উড়িষ্যা সহ একাধিক রাজ্যে বাংলা ভাষীদের বাংলাদেশী সন্দেহে হেনস্থা করার একাধিক অভিযোগ সম্প্রতি সামনে এসেছে। থানায় আটকে রাখা এমন কি বাংলাদেশে পুশব্যাক করার ঘটনাও ঘটেছে। এরকমই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হল অন্ডল থানার দক্ষিণখন্ড গ্রামের মুনিলাল মুর্মু নামে এক যুবক। সপ্তাহখানেক আগে মুনিলাল মুর্মু (২২) কাজের খোঁজে একাই পাড়ি দেয় উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে। পৌঁছায় সেখানকার গড়মুক্তেশ্বর থানা এলাকায়। উদ্দেশ্য ছিল সেখানে কো, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তায় ফিরছে বাড়িন একটা কাজ খোঁজার। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো মাত্র স্থানীয় মানুষজন তাকে ঘিরে ধরে। জানতে চাই তার নাম পরিচয়। বাংলা ভাষায় কথা বলায় মুনিলালকে নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হয় স্থানীয়দের মধ্যে। তিন দিন আগে মুনিলাল কে আটক করে তারা তুলে দেয় স্থানীয় গড়মুক্তেশ্বর থানার পুলিশের হাতে। মুনিলাল জানান আমার কাছে কোন পরিচয়পত্র ছিল না। বাংলা এবং আদিবাসী ছাড়া অন্য কোন ভাষা বলতে জানিনা। স্থানীয় পুলিশকে সেসব কথা জানায়।
উত্তরপ্রদেশের সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ মুনিলালের আটক এর কথা অন্ডাল থানার পুলিশকে জানায়। পুলিশ দক্ষিণখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েত ও বিডিওকে বিষয়টি জানালে সেই খবর পৌঁছায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “অন্ডাল পরিবার” এর কাছেও। আটক মুনিলালকে ফিরিয়ে আনতে সংস্থার ২ সদস্য সঞ্জয় সিনহা ও বিশ্বজিৎ হাজরা শনিবার সড়কপথে পাড়ি দেন উত্তরপ্রদেশের গড়মুক্তেশ্বর থানার উদ্দেশ্যে। রবিবার থানাতে প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে মুনিলালকে মুক্ত করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। আগামীকাল সোমবার মুনিরলাল কে নিয়ে বাড়ি পৌঁছাবো বলে জানান অন্ডাল পরিবারের সদস্য সঞ্জয় সিনহা । তিনি বলেন বিডিওর কাছ থেকে মুনিলালের আটক হওয়ার খবর পেয়ে আমরা ভোটার লিস্টে তার নাম খুঁজে বের করি, তারপর স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে রেসিডেন্স সার্টিফিকেট জোগাড় করি। এরপর থানা, বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য সহ অন্যদের আর্থিক সহযোগিতায় গাড়ি ভাড়া করে আটক যুবকের পরিবারের ৩ সদস্যকে সাথে নিয়ে সড়কপথে উত্তরপ্রদেশ পৌঁছায়। সঞ্জয়বাবু বলেন উত্তরপ্রদেশের সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কাছে ভালো ব্যবহার পেয়েছি। নথিপত্র দেখে মুনিলালকে ছাড়ার পাশাপাশি থানার আধিকারিক মুনিলালকে পাঁচ হাজার টাকা সহযোগিতাও করেছেন। দক্ষিণখন্ডে মুনিলালের পরিবারের এক সদস্য বলেন পেটের জন্য কাজ খুঁজতে গিয়ে এভাবে আটক হতে হবে তা তারা কল্পনাও করেননি। তবে মুনিলাল ছাড়া পেয়েছে আগামীকালের মধ্যে বাড়ি ফিরবে শুনে আশ্বস্ত হয়েছি বলে জানান তিনি।



