শহরে নতুন নেশার দ্রব্য, টার্গেট স্কুল পড়ুয়ারা?
আমার কথা, ৭ মার্চ
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
দুর্গাপুরে ‘আয়ুর্বেদিক চকলেট’-এর নামে নেশাজাতীয় চকলেট বিক্রির অভিযোগ। ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়। নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ওই চকলেট বিক্রি করার অভিযোগ উঠতেই বিষয়টি সামনে আসে স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে। এরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, অভিভাবক ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত দোকানে পৌঁছে যান তিনি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দোকানদারকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের রানা প্রতাপ রোড এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে। শনিবার অন্যান্য দিনের মতোই স্কুলে আসে দুর্গাপুরের নতুন পল্লী এলাকার এক নবম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে এসে তার হাতে থাকা একটি সবুজ রঙের প্যাকেট নিয়ে সহপাঠীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সেই দৃশ্য নজরে পড়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দেবযানী বসুর। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি দ্রুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে ওই ছাত্রীর কাছে যান এবং প্যাকেটটি দেখতে চান। জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রীটি জানায়, সে ধুনুরা প্লট এলাকার একটি দোকান থেকে স্বপন গড়াই নামের এক ব্যক্তির দোকান থেকে চকলেটটি কিনেছে। দোকানদার তাকে বলেছিল এটি একটি ভেষজ চকলেট। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি আদতে নেশাজাতীয় বস্তু। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্রীর অভিভাবকদের খবর দেন এবং পুলিশকে জানানো হয়। এরপর অভিভাবক ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তারা সরাসরি ওই দোকানে পৌঁছান। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত দোকানদারকে আটক করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কীভাবে একটি দোকানে প্রকাশ্যে এমন সন্দেহজনক চকলেট বিক্রি হচ্ছে এবং তা আবার অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছেতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দেবযানী বসু বলেন,
“আমরা যখন প্যাকেটটি দেখি, তখনই সন্দেহ হয়। পরে ছাত্রীটি জানায় যে কাছের একটি দোকান থেকে এটি কিনেছে এবং তাকে বলা হয়েছে এটি ভেষজ চকলেট। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে বিষয়টি খুবই সন্দেহজনক। একজন ছোট ছাত্রীর হাতে এই ধরনের জিনিস কীভাবে বিক্রি করা হল, তা নিয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের কাছে এই ধরনের নেশাজাতীয় সামগ্রী পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।



