এ তো উলোটপুরান, একদা কম্পিউটর বিরোধী ‘বামপন্থী’-রা এখন AI-পন্থী
আমার কথা, সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ
একসময় রাজ্যে কম্পিউটার ঢোকার পথেই ছিল বাধা! আশির দশকে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বড় অংশের যুক্তি ছিল, কম্পিউটার আসলে চাকরি চলে যাবে, শ্রমিকদের রোজকার বিপন্ন হবে। সেই ভয় থেকেই রাজ্যের সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ক্ষেত্রেও কম্পিউটার প্রযুক্তি দীর্ঘদিন আটকে গিয়েছিল। আর সেই সিদ্ধান্তের অন্যতম মুখ ছিলেন বামেরা, অভিযোগ উঠেছিল এমনটাই। কিন্তু এখন সময়ের হাওয়া বদলেছে। আজ সেই বামেরাই রাজনীতির ময়দানে নতুন প্রযুক্তির সর্বশেষ অস্ত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নেমেছে। প্রচার থেকে প্রতিবাদ সবেতেই এখন তাদের হাতিয়ার এআইয়ের তৈরি ভিডিও। দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলেও ছড়িয়েছে এ নিয়ে গুঞ্জন। বেশ কিছু সিপিএম নেতা, কর্মীর ফেসবুক পেজে ইতিমধ্যেই ঘুরছে এআই-তৈরি একাধিক প্রচার ও প্রতিবাদের ভিডিও। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সিদ্ধার্থ বসুর ফেসবুক পেজেও দেখা যাচ্ছে সেই রকম একাধিক ভিডিও। এছাড়াও কোনো সিপিএম কর্মী বানাচ্ছেন কর্মসূচির ক্লিপিং, কেউ বা আন্দোলনের পোস্টার, সবই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপসে।
কটাক্ষ করে জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা একদিন আধুনিকতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছিল, আজ তারাই প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে টিকে থাকার লড়াই লড়ছে। কিন্তু কোনো লাভ নেই।”
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় কটাক্ষের সুরে বলেন, “রাজ্যকে পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল সিপিএম। যারা একদিন কম্পিউটারের পথ রুখেছিল, আজ তারাই এআই এর ভরসা করেছে, সেই জন্য ধন্যবাদ। তবে সিপিএমের লোকেরা উল্টো দিকে বিজেপিকে ভোট দিয়ে দিচ্ছে। এইরকম দ্বিচারিতা করলে সিপিএম মহাশূন্যে উড়ে যাবে।”
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, “কেউ ভুল বুঝতে পারলে স্বাগত। সব রাজনৈতিক দলই যদি গোঁড়ামি ছেড়ে যদি আধুনিক প্রযুক্তি (AI)-কে কাজে লাগায় তবে দেশ ও রাজ্যের উন্নতিই হবে”।
পাল্টা সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সিদ্ধার্থ বসুর সাফাই,”সিপিএম কম্পিউটার আসতে বাধা দেয়নি, বরং একশ্রেণীর মালিক রাজ্যে কম্পিউটার এনে শ্রমিকদের কর্মচ্যুত করার চক্রান্ত করছিল। তারই প্রতিবাদ করেছিল সিপিএম সরকার। বর্তমানে যদি সিপিএম এ রাজ্যে ক্ষমতায় থাকতো তাহলে ব্যাঙ্গালোরকেও ছাপিয়ে যেত তথ্যপ্রযুক্তিতে। আমরা মানুষের সাথে হেঁটে লড়াই করি আর নেটের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই করি। আমাদের প্রচার আর জনসংযোগ দেখে ভয়ে মরছে তৃণমূল আর বিজেপি।”



