চিকিৎসার নামে চলছে বুজরুকি, অভিযোগে উত্তপ্ত পানাগড়, আক্রান্ত ২
আমার কথা, পানাগড়, ১৮ মেঃ
কারোর মাথায় যন্ত্রনা,কারোর পায়ে ব্যাথা তো কারোর পেটে যন্ত্রনা।ডাক্তার দেখিয়েও সাড়ে না রোগ।আর এই সব সমস্যার সমাধান হবে বিশেষ পুকুরের জলে ডুব দিলে বা ধূপের ছাই মাখলে বা ধর্মীয় গুরুর প্রার্থনা করে, এমনই ভাবে বুজরুকী চলতো কাঁকসায়।আর সেই বুজরুকীতে পা দিতে শুরু করেছিলেন কাঁকসার বহু মানুষ।প্রতি রবিবার বসত এই বুজরুকীর সভা কাঁকসার পানাগড় বাজারের দার্জিলিং মোড়ের কাছে একটি রেস্টুরেন্টের হল ঘরে। বিষয়টি ক্রমশই কাঁকসার মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। রবিবার ফের এই সভা শুরু হয় সকাল থেকে। সেখানে যোগ দেন কাঁকসা সহ বাঁকুড়া,পুরুলিয়া,বীরভূম জেলার বহু মানুষ। এক এক জনে নিজের রোগের কথা বলতে থাকেন।কিভাবে কি করে তার রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন সেই সব বিষয় তুলে ধরতে থাকেন।সব কিছুই চলছিলো ঠিকঠাক। হঠাৎই পানাগড় বাজার থেকে একদল যুবক সেখানে গিয়ে কিসের অনুষ্ঠান চলছে জিজ্ঞাসা করতেই আয়োজকদের সাথে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় বচসা। বচসা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি।রেস্টুরেন্টের উপর উত্তেজনার সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয় কাঁকসা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেয়।স্থানীয়দের অভিযোগ বেশ কয়েকমাস ধরে একদল মানুষ এসে এলাকার মানুষকে বুজরুকী দিয়ে যাচ্ছেন।রোগ হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে উল্টে বুজরুকী শুনে মানুষ এখন নিজের বাড়িতে সেই সব কাজ করতে শুরু করেছে। বিষয়টি তারা বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ করছিলেন।অবশেষে এদিন হাতেনাতে সকলকে ধরেন তারা। তাদের অভিযোগ অনুষ্ঠানের যারা আয়োজক তারা অসহায় ও গরিব মানুষদের সেখানে ডেকে বুজরুকী দিয়েই নাকি রোগ সেরে যাবে এমনই দাবি করছিলো।অনেকে আবার সেই বুজরুকী তেই নাকি সুস্থ হয়েছেন বলে দাবি করতে থাকেন।স্থানীয়দের অভিযোগ মানুষ এইভাবে বুজরুকির স্বীকার হয়ে আদিম যুগে চলে যাচ্ছে।তাই এলাকার মানুষের কথা ভেবে তারা একজোট হয়েই এই কাজে বাধা দিয়েছেন। যাতে আয়োজকরা বুঝতে পারে যে মানুষ সচেতন হয়েছে।এখানে আর কোনো বুজরুকী চলবে না।
যদিও এই ঘটনায় ওই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বাপি হাটি জানিয়েছেন,আয়োজকরা তার কাছে ভাড়া নিয়েছিলো। তিনি ভাড়া দিয়েছিলেন। নীচে বসে মাইকের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিলো ঠিকই কিন্তু উপরে কি হচ্ছিলো তা তার জানা নেই। এর বেশি তিনি কিছু জানতেন না।হঠাৎ করেই একদল যুবক এসে সটান উপরে উঠে যায়।তার পরেই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়।
যদিও তৃণমূল নেতা পল্লব বন্দোপাধ্যায়ের অভিযোগ,কে কোথায় হোটেল ভাড়া নিয়ে কি অনুষ্ঠান করছে সেটা হোটেল মালিককে অভিযোগ করতে পারতো, প্রয়োজন পড়লে প্রশাসনকে জানাতো। কিন্তু বিজেপি ও আর এস এস এর কিছু ছেলে হোটেলে ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে। প্রশাসনের উপর ভরসা না রেখে ওদের এই রকম তান্ডব বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।
যদিও বিজেপি নেতা রমন শর্মার পাল্টা অভিযোগ প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন অনৈতিক কাজ হচ্ছিলো। যুব সমাজ এর প্রতিবাদ করায় বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়া হোচ্ছে।সমাজ জেগেছিলো বলেই ইংরেজরা দেশ থেকে পালিয়েছিল।এবার চটি পিসিকেও পালাতে হবে।



