বিশেষ পাউডারের চকচকে ফাঁদ! ভদ্রবেশে বাড়িতে ঢুকে লক্ষ লক্ষ টাকার অলঙ্কার চুরি
আমার কথা, ৩০ মে
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
বাড়ির দরজায় কড়া নেড়েছিল দু’জন ভদ্রবেশী ব্যক্তি। কথা বলার ভঙ্গি, ব্যবহার সবকিছুতেই ছিল বিশ্বাসযোগ্যতার ছাপ। আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই দিনের আলোয় এক মহিলার কাছ থেকে বহুমূল্যের সোনার অলঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের মাতঙ্গিনী হাজরা বিথি এলাকায়।শনিবার সকালে কবিতা চৌধুরী নামে এক মহিলার বাড়িতে আসে দুই ব্যক্তি। তারা দাবি করে, বিশেষ এক পাউডারের সাহায্যে তামার সামগ্রী একেবারে নতুনের মতো চকচকে করে দেওয়া যায়। প্রথমে বাড়ির কয়েকটি তামার জিনিস পরিষ্কার করে দেখায় তারা। মুহূর্তের মধ্যে তামার সামগ্রী ঝকঝকে হয়ে উঠতে দেখে তাদের প্রতি আস্থা তৈরি হয় বাড়ির সদস্যদের।অভিযোগ, এরপরই শুরু হয় আসল খেলা। ওই দুই ব্যক্তি মহিলাকে জানায়, শুধু তামাই নয়, সোনার অলঙ্কারও পরিষ্কার করে নতুনের মতো করে দেওয়া সম্ভব। তাদের কথায় বিশ্বাস করে হাতে থাকা সোনার অলঙ্কার খুলে দেন কবিতা দেবী। অভিযোগ, অলঙ্কারগুলি পরিষ্কার করার নাম করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পরই কৌশলে সেগুলি হাতিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই নানা অজুহাতে সেখান থেকে বেরিয়ে যায় তারা। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে অলঙ্কার খুঁজে না পেয়ে মাথায় হাত পড়ে তাঁর। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে চকচকে করার নাম করে আসলে সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল ওই দুই ব্যক্তি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারাও। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারকরা কোনও সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কবিতা চৌধুরী বলেন, “ওরা খুব ভদ্রভাবে কথা বলছিল। প্রথমে তামার জিনিস পরিষ্কার করে বিশ্বাস অর্জন করে। তারপর সোনার গয়না পরিষ্কার করার কথা বলে নিয়ে নেয়। বুঝতেই পারিনি যে প্রতারণার শিকার হচ্ছি। আমার বহুমূল্যের সোনার অলঙ্কার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছি।”



