মেয়েদের নিরাপত্তা বাড়াতে রাতের বাসে পুলিশী টহল
আমার কথা, ১৯ মে
সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর:
যখন খুশি বাড়ি থেকে বের হন, নির্ভয়ে বাসে যাতায়াত করুন, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের বার্তার পরেই অ্যাকশনে নামল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। সন্ধ্যা নামতেই দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। একের পর এক বাসে উঠে মহিলা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছেন পুলিশ আধিকারিকরা, শুনছেন তাঁদের সমস্যা, পাশাপাশি দিচ্ছেন নিরাপদ যাতায়াতের আশ্বাসও। বাস্তবেও যাতে মহিলারা নিরাপদ অনুভব করেন, সেই লক্ষ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কমিশনারেটের ট্রাফিক বিভাগ। মুচিপাড়া ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীরা প্রতিটি বাসে উঠে মহিলা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। মহিলাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে, রাতে হোক বা দিনে, নির্ভয়ে বাড়ি থেকে বের হন, পুলিশ রয়েছে পাশে। এই বিশেষ নজরদারি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ট্রাফিক বিভাগের এসিপি (৩) রাজ কুমার মালাকার।
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পরিষেবার মান বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে শুধু বাস পরিষেবাই নয়, নজরে এসেছে ‘যাত্রী সাথী’ অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থাও। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, বুকিং নেওয়ার পরও অনেক চালক পরিষেবা দিচ্ছেন না। ফলে সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা। নতুন সরকার গঠনের পর সেই অভিযোগে আরও কড়া হয়েছে প্রশাসন।যাত্রী সাথী পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত চালকদের সতর্ক করে ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, যাত্রী হয়রানি বা বুকিং বাতিলের মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে নেওয়া হবে কড়া আইনি পদক্ষেপ। পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও যাত্রীবান্ধব করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ১৫ দিনে এই অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং নিয়ে যারা ভালো কাজ করেছে তাদেরকে পুরস্কারও দেওয়া হয়।এসিপি রাজ কুমার মালাকার বলেন, “যাত্রী সাথী অ্যাপ শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বুকিং না নেওয়ার অভিযোগ আসছে। এতে সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন। আগামী দিনে এই ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করব। যারা ভাল কাজ করবে তাদের পাশে সব সময়ই থাকবে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। তাদের পুরস্কারও দেওয়া হবে।”



