“পুলিশ এখানে গাড়ি ধরে”- গুগল ম্যাপে ক্ষোভের বহি:প্রকাশ?
আমার কথা, সনাতন গরাই, দুর্গাপুর, ৭ জানুয়ারী:
মোবাইল লোকেশনে ক্ষোভের লাল দাগ! দুর্গাপুরের ডিএমসি মোড়ে ঢুকলেই সতর্কবার্তা। ট্রাফিক নিয়ে প্রশ্ন নেটদুনিয়ায়। মোবাইল লোকেশন যেন এবার অভিযোগপত্র! দুর্গাপুরের ডিএমসি মোড়ে ঢুকতেই মানচিত্রে লাল চিহ্ন সঙ্গে লেখা, “পুলিশ এখানে গাড়ি ধরে।” এই এক লাইনের বার্তাতেই হইচই নেটিজেনদের মধ্যে। কেউ হাসছেন, কেউ ভয় পাচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন এটাই কি ট্রাফিকের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ? সিটি সেন্টার ও দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৯নং জাতীয় সড়ক ধরতে ডিএমসি মোড় অবলম্বন করতে হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার বাইক ও চারচাকা যান চলাচল করে। বহু চালক মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেই পথ বেছে নেন। আর সেখানেই চোখে পড়ছে এই বিতর্কিত লেখা। ফলত অনেকেই থমকে যাচ্ছেন, কেউ রুট বদলাচ্ছেন, আবার কেউ মজা করে বলছেন,“গুগল ম্যাপও বুঝি এখন ট্রাফিক রিপোর্টার!” তবে শুধু মজাই নয়, এর আড়ালে উঠে আসছে অভিযোগের সুরও। ডিএমসি মোড়ে প্রায় নিয়ম করেই বিকেলের দিকে ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। হেলমেট, কাগজপত্র নিয়ে কড়াকড়ি চলে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে জোরজুলুমেরও। নাম বলতে অনিচ্ছুক বাইক চালকদের একাংশের দাবি, কথায় কথায় গাড়ি আটকানো, ভয় দেখানো এই সব অভিজ্ঞতা জমতে জমতেই হয়তো ম্যাপে এই লেখা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাইক আরোহীর কথায়, “সবাই নিয়ম মানুক, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু আচরণটা অনেক সময় ঠিক থাকে না। সেই রাগটাই হয়তো কেউ লোকেশনে লিখে দিয়েছে।”
প্রশ্ন উঠছে এই লেখা কি নিছক দুষ্টুমি? না কি ট্রাফিক পুলিশের কিছু অংশের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের ডিজিটাল প্রতিবাদ? মজার ছলে শুরু হলেও বিষয়টি যে অস্বস্তিতে ফেলেছে ট্রাফিক মহলকেও, তা বলাই বাহুল্য।



