“কাঁচা বাড়ি পাকা বাড়ি”-রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝে আত্মঘাতী মহিলা
আমার কথা, ২৮ ফেব্রুয়ারী
সার্থক কুমার দে, পান্ডবেশ্বর:

সুন্দরা সূত্রধর নামে এক মহিলার সরকারি প্রকল্পে বাড়ি না পাওয়া নিয়ে বেঁধেছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। শনিবার ওই মহিলা আত্মঘাতী হন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই কি ওই মহিলা আত্মঘাতী হলেন তা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন।
পাণ্ডবেশ্বরের বেলডাঙ্গার বাসিন্দা সুন্দরা সূত্রধর এর পাশে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি দাবি করেছিলেন এই অসহায় মহিলা তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কারণে সরকারি প্রকল্পে পাকা বাড়ি পায়নি । সেই কারণে ওই মহিলা মাটির গোয়াল ঘরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি । ঘটনার পরের দিনই আসরে নামে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা । শাসক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ওই মহিলার একটি পাকা বাড়ি রয়েছে । তাই সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাওয়ার কথা নয় তার । পাশাপাশি পরের দিনই সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল । সেই ভিডিওতে দেখা যায় একটি পাকা বাড়ির সামনে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সুন্দরা দেবী । তৃণমূল কর্মীদের তিনি জানান এই পাকা বাড়িটি আমার । জমানো আর লোনের টাকায় তৈরি করেছি । বিজেপি নেতার দেখানো কাঁচা গোয়াল ঘরটিও তার । তবে এখন পাকা বাড়িতেই থাকেন তিনি । বিজেপি নেতার প্ররোচনায় সেদিন মিথ্যা কথা বলেছি বলে তিনি স্বীকার করেন । এর পরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় শাসক বিরোধী রাজনৈতিক তরজা । এই আবহে বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী হন সুন্দরাদেবী । নিজের গোয়াল ঘর থেকেই উদ্ধার হয় তার ঝুলন্ত মৃতদেহ । বাড়ি নিয়ে বিতর্ক এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারণেই কি আত্মঘাতী হয়েছেন সুন্দরা দেবী ! নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোন কারণ ? তা নিয়ে এলাকায় ছড়িয়েছে কৌতুহল । ঘটনার খবর পেয়ে এদিন বেলডাঙ্গায় ওই মহিলার বাড়ি যান তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী । সাংবাদিকদের একাংশের কাছে তিনি বলেন ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক । সম্ভবত মানসিক অবসাদে তিনি আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন । বিজেপি দলের কোন প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি । মহিলা মৃত্যু নিয়ে ফের রাজনৈতিক তরজার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত স্থানীয়দের । মহিলার মৃত্যুর ঘটনা এখন কোন দিকে মোর নেই সেটাই দেখার ।



