স্বস্তি! অবশেষে শংকরপুরে শুরু হল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাশণের কাজ
আমার কথা, দুর্গাপুর,২ জুলাইঃ
দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে এবার মুক্তি পেতে চলেছেন দুর্গাপুরের শংকরপুর সহ সলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। শংকরপুর ডাম্পিংইয়ার্ডে চালু হল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ। গত দেড় বছর ধরে বন্ধ ছিল এই বজ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি। ফলে আবর্জনার স্তুপ পাহাড় সমান হতে হতে এলাকাবাসীদের তার দুর্গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল। বুধবার দুর্গাপুর নগর নিগমের তত্ত্বাবধানে একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে আবার চালু হলো বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ।
বাংলার রূপকার ডা” বিধাননচন্দ্র রায়ের স্বপ্নের শহর দুর্গাপুর একদা স্মার্ট সিটির তালিকায় জায়গা নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তা রূপ নেয়নি। কিন্তু এরপরেও এই শহর কিন্তু দিন দিন স্মার্ট হয়ে উঠছে। ঝাঁ চকচকে শপিং মল থেকে শুরু করে বড় বড় বহুতল, বেশ কয়েকটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, অনেকগুলি বেসরকারী কলেজ তো রয়েইছে, তার সাথে ইস্পাত নগরীর হওয়ার কারণে কারখানা তো আছেই। দুর্গাপুর নগর নিগমের আওতায় রয়েছে ৪৩টি ওয়ার্ড, আর এই ওয়ার্ডগুলির বর্জ্য যাতে শহর নোংরা না করে তার জন্য কেন্দ্রীয় জওহরলাল নেহেরু ন্যাশনাল আরবান রিনিউয়াল মিশন (জেএনএনইউআরএম) প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দে ও একটি বেসরকারি সংস্থার লগ্নিতে ২০১০ সালে দুর্গাপুরের শঙ্করপুরে কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। কিন্তু একেই বলে প্রদীপের নিচে অন্ধকার। এই শংকরপুরের বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাষণ কেন্দ্রটি গত দেড় বছর ধরে বন্ধ ছিল। ফলে আবর্জনার স্তুপে একদিকে যেমন উপদ্রব বেড়েছিল, তেমনই আস্তাকুড়ের কারণে মশা মাছি আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল দুর্গন্ধ। দমকা হাওয়া দিলে তো আর কথাই নেই। ৫-৬ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল পচা গন্ধ। বিষয়টি নিয়ে নগর নিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল খুব তাড়াতাড়ি বর্জ্যপ্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাশন শুরু হবে। সেই মতো আজ একটি বেসরকারী সংস্থাকে এই কেন্দ্রটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল নগর নিগমের পক্ষ থেকে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পুরো সভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্যা রাখি তেওয়ারি ও সদস্য ধর্মেন্দ্রর যাদব এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি সংস্কার আধিকারিকরা। এই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মেশিন টিতে তিন রকমের প্রক্রিয়া হবে। প্রথমে প্লাস্টিক আলাদা হবে, তারপর লোহার কুচি আলাদা করবে এবং তার সাথে সাথে সার ও তৈরি হবে।
বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসকমন্ডলীর সদস্য রাখী তিওয়ারি জানান, “একটি বেসরকারী সংস্থাকে টেন্ডার ডেকে এই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাশন কেন্দ্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল। দেড় থেকে দুবছরের মধ্যেই এই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করে নিষ্কাশণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”



