বালির গাড়ি যাতায়াতের ফলে বেহাল রাস্তা, পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ স্থানীয়দের
আমার কথা, ৯ ফেব্রুয়ারী
সনাতন গরাই, রণডিহা:
প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধ চলল পানাগড় রনডিহা মোড়ে। লাগাতার বালিবোঝাই গাড়ির অবাধ যাতায়াতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা এলাকার বাসিন্দারা এই অবরোধে সামিল হন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পানাগড় রনডিহা মোড় থেকে পানাগড় রেল কলোনির রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা চরম বেহাল। সারাদিনে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বালিবোঝাই গাড়ি যাতায়াতচল করায় রাস্তা কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, ভারী বালির গাড়ির দাপটে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলকেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা এদিন মারাত্মক সমস্যায় পড়ে। অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এলাকাবাসীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবরোধ চলাকালীন ঘটনাস্থলে কাঁকসা থানার পুলিশ পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের চারদিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান অবরোধকারীরা। অভিযোগ ওঠে, দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের সামনে দিয়েই বালিবোঝাই গাড়ির অবাধ যাতায়াত চলছে, অথচ কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিক্ষোভ চলাকালীন একটি বালিবোঝাই ট্র্যাক্টর ঘটনাস্থলে এসে পড়ে। অবরোধকারীরা চালকের কাছে বৈধ চালান দেখতে চাইলে কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি চালক। এরপরই ক্ষোভ আরও বাড়ে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, কীভাবে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এইভাবে দিনের পর দিন বালির ব্যবসা চলছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। এই অবরোধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা অংশ নেন। সকলেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বালির গাড়ির অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাস্তার সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন এলাকাবাসীরা। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মদক্ষ নবকুমার সামন্ত আশ্বাস দেন, দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য প্রশাসন সদা তৎপর।



