গৃহবধূর সাহসিকতায় আটকে গেল ডাকাতি, দুর্গাপুর পুলিশ জানালো কুর্ণিশ
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৬ মেঃ
পুলিশের তৎপরতায় অপরাধ দমন আর অপরাধীকে ধরা সম্ভব হয়েছে এটা কোনো ব্যাতিক্রম ঘটনা নয়। কিন্তু ব্যাতিক্রম ঘটনা তখন সেতাকেই বলা যায় যখন একজন সাধারন নাগরিকের সাহসিকতায় অপরাধ আটকানো সম্ভব হয়। ঠিক এরকমই এক ঘটনার সাক্ষী রইল শহর দুর্গাপুর। অপরাধীদের ধরা না গেলেও অপরাধ দমন করা সম্ভব হয়েছে এই শহরেরই এক বর্ষীয়ান গৃহবধূর বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায়। পুলিশের পক্ষ থেকে সেই সাহসী মহিলাকে জানানো হল কুর্ণিশ ও অভিনন্দন।
দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের এফ ২/৮ ইন্দ্রপ্রস্থ কো-অপারেটিভের বাসিন্দা ভক্তপদ শনিগ্রাহী। তাঁর স্ত্রী লিপিকা শনিগ্রাহী ২২ মে অর্থাৎ বুধবার দুপুরে বাড়ির ভেতর থেকে দেখতে পান পাশের বাড়িতে এক যুবক গ্রিল খুলে ভেতরে ঢুকেছে ও অন্য এক যুবক বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তিনি যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু ওই দুই যুবকের কথায় অসঙ্গতি পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করে পরিবারের লোকজনকে ডাকতে শুরু করেন ওই গৃহবধূ। অবস্থা বেগতিক বুঝে তখন ওই দুই যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর খবর পৌঁছোয় পুলিশের কাছে। লিপিকাদেবীর সাহসিকতার জন্য অনেক বড় অপরাধ আটকে যায়, আর এর জন্য পুলিশের পক্ষ থেকেও তাঁর এই পদক্ষেপের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। আজ সোমবার দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে লিপিকাদেবীকে সম্মান জানানো হয়। এদিন তাঁর বাড়িতে যান এসিপি(দুর্গাপুর) সুবীর রায়, দুর্গাপুর থানার ভারপাপ্ত আধিকারিক সঞ্জীব দে, দুর্গাপুর মহিলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক স্নেহন্বিতা মণ্ডল ও সিটিসেন্টার ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুদীপ্ত বিশ্বাস। পুলিশের পক্ষ থেকে লিপিকাদেবীর সাহসিকতার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে কিছু উপহার তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে।
এসিপি(দুর্গাপুর) সুবীর রায় জানান, “যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা চাই মানুষ এভাবেই যেন আরো এগিয়ে আসে। তাহলে অপরাধ আটকাতে আমরা আরো বেশি সক্ষম হবো”।
এই উপহার ও অভিনন্দন পেয়ে খুবই খুশী লিপিকাদেবী জানান, “আমি খুবই খুশী হয়েছি পুলিশের কাছ থেকে এরকম অভিনন্দন পেয়ে”।



