স্কুলছুট রুখতে ‘দুয়ারে স্কুল’, অভিনব উদ্যোগ দুর্গাপুরে
আমার কথা, ২৫ জানুয়ারী
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
স্কুলছুটের প্রবণতা রুখে দিতে এবং পড়ুয়াদের আবারও পড়াশোনার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে অভিনব উদ্যোগ নিল দুর্গাপুরের সরকারি নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়। রবিবার সকাল থেকেই শুরু হলো ‘দুয়ারে স্কুল’ কর্মসূচি। দুর্গাপুর পুরনিগমের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারিয়া এলাকাজুড়ে এই কর্মসূচি ঘিরে দেখা গেল এক অন্য ছবি। শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়াল ছেড়ে শিক্ষা পৌঁছে গেল মানুষের দোরগোড়ায়। শুধু শিক্ষক শিক্ষিকরা নয় নয়, কয়েকশো ছাত্রছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অভিভাবকদেরও পাশে এনে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানো হয় সরকারি স্কুলে পড়লে কী কী সুযোগ-সুবিধা মেলে। সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল, কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা, মিড-ডে মিল, বিনামূল্যের বই ও পোশাক সব মিলিয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের নানা সুযোগের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয় অভিভাবকদের সামনে।এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. কলিমুল হক সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পুলিশের আধিকারিকরাও। তাঁদের উপস্থিতিতে আরও মজবুত হয়েছে সচেতনতার বার্তা, বেড়েছে অভিভাবকদের আস্থা।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. কলিমুল হক জানান,
“অনেক সময় আর্থিক অনটন, অসচেতনতা বা ভুল ধারণার কারণে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেয় পড়ুয়ারা। সেই ভুল ভাঙাতেই আমাদের এই ‘দুয়ারে স্কুল’। রেললাইন পারাপার করতে নিষেধ, জাতীয় সড়কে সিগনাল ছাড়া পারাপার করতে নিষেধ করা হয় স্কুল থেকে বেরিয়ে খারাপ কাজ না করতে বলা হয়। এছাড়াও পড়ুয়াদের উৎসাহ বাড়ানো এবং অভিভাবকদের মনোবল জোরদার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” অভিভাবক দীনেশ যাদব বলেন,”আমাদের এলাকার মানুষ বেশিরভাগ দিনমজুর। সমস্যার কথা জানাতে স্কুলে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে যায়। এই দুয়ারে স্কুলের মাধ্যমে আমাদের সমস্যার কথাও তুলে ধরলাম। বাসের সমস্যা ছিল সেই কথাও জানালাম। এছাড়াও সুযোগ-সুবিধান নিয়েও অনেক সমস্যা ছিল সেগুলিও জানালাম। সেই সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান করার আশ্বাস দিলেন প্রধান শিক্ষক। সব মিলিয়ে আমাদের খুব ভালো লাগলো এই দুয়ারে স্কুল।”



