স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণের টাকা আত্মসাৎ, থানায় অভিযোগ দায়ের
আমার কথা, অন্ডাল, ২৭ মার্চ:
অন্ডাল থানার রামপ্রসাদপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় দশটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোনের টাকার আত্মসাৎ এর অভিযোগ ওঠে চাঁদনী খাতুন ও রেনু মন্ডল নামে দু’জন সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে। গোষ্ঠীর প্রতারিত সদস্যরা গত রবিবার প্রতিকার চেয়ে অন্ডালের বিডিওর দারস্থ হয়েছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অন্ডালের বিডিও দেবাঞ্জন দত্ত ও জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ কালোবরণ মন্ডল। বৃহস্পতিবার গোষ্ঠীর সদস্যরা অন্ডাল থানায় অভিযুক্ত দুইজন সুপারভাইজারের নামে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ দায়ের করে। মিনা খাতুন, শবনম খাতুনরা বলেন নাজিরাবাদ এলাকায় দশটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। এক একটি গোষ্ঠীতে রয়েছে ন্যূনতম ১০ জন করে সদস্য। গোষ্ঠীগুলির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন চাঁদনী খাতুন ও রেনু মন্ডল নামে দুইজন সুপারভাইজার। তারা অভিযোগ করেন গোষ্ঠীর নামে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া হয়। লোনের পরিমাণ সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি ৮০ লক্ষ টাকার মত। লোন পরিশোধের টাকা গোষ্ঠীর সদস্যরা নিয়মিত দিয়েছে সুপারভাইজারদের হাতে। কিন্তু সেই টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি। ব্যাংকের পক্ষ থেকে গোষ্ঠীর সদস্যদের লোনের টাকা শোধ করার জন্য চিঠি এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে সুপারভাইজারদের চেপে ধরলে তারা এই বিষয়ে কিছু জানিনা বলে এড়িয়ে যান। এরপরই গোষ্ঠীর সদস্যরা গত রবিবার অন্ডালের বিডিও ও জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ কালোবরণ মন্ডলের দারস্থ হন। অভিযোগ শুনে তারা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো কাজের কাজ কিছু হয়নি এই অভিযোগ তুলে গোষ্ঠীর সদস্যরা বৃহস্পতিবার অন্ডাল থানায় অভিযুক্ত দুজন সুপারভাইজারের নামে লোনের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ দায়ের করেন।
টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় লেগেছে রাজনৈতিক রংও। গোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে এদিন থানায় দেখা যায় সিপিএম নেতাদের একাংশকে। সিপিএম নেতা সুব্রত সিদ্ধার্থ, দেবমিতা সরকাররা বলেন রাজ্য এখন কাটমানির সরকার চলছে । নেতাদের মদতে অসহায় গোষ্ঠীর সদস্যদের টাকাও আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তারা বলেন বিষয়টি নিয়ে গোষ্ঠীর প্রতারিত সদস্যরা বিডিও ও জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষের দারস্থ হয়েছিল। তারা অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন। সেই কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে দেওয়া হয়নি এতদিন। উত্তরে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ কালোবরণ মন্ডল বলেন প্রতারিতরা যাতে টাকা ফেরত পাই সেই চেষ্টা করছিলাম। বিডিও একজন অফিসার নিয়োগ করেছেন বিষয়টি দেখার জন্য। থানায় অভিযোগ দায়ের প্রসঙ্গে কালোবরণ বাবু বলেন যে কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করতেই পারে। আশা করি পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। গরিব মানুষ টাকা ফেরত পাক, এটা আমরাও চাই বলে জানান কালোবরণ বাবু।



