একই বুথ থেকে শ’য়ে শ’য়ে ভোটারের ডাক, ক্ষোভ
আমার কথা, সনাতন গরাই, কাঁকসা, ১৩ জানুয়ারী:
এক বুথে ৩৭০ জনের সুনানিতে ডাক। ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকার মানুষ। এইখানে জন্ম হলেও শুনানিতে ডেকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে কটাক্ষে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। বৈধ নথি থাকলে কারো নাম বাদ যাবে না পাল্টা বিজেপি। গোলসি বিধানসভার ১৩নং বুথ কাঁকসার জাঠগড়িয়া। সেইখানেই রয়েছে প্রায় ১২৬০জন ভোটার। তাদের মধ্যে ৩৭০ জনের ডাক পড়েছে শুনানিতে। নোটিশ আসতেই ক্ষুব্ধ গোটা এলাকার মানুষ। কারোর নোটিশে লেখা হয়েছে একজন বাবার একাধিক ছেলে হওয়ায় সন্দেহের তালিকা দেখা দিয়েছে। কারোর নোটিশের লেখা রয়েছে নথির গোলযোগ রয়েছে। কিন্তু ক্ষুব্ধ মানুষের দাবী, তাদের এখানেই জন্মভিটে। বাপ ঠাকুরদারাও এখানেই জন্মগ্রহণ করেছে। এখন তাদের বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। বেছে বেছে আবার সংখ্যালঘুদের পাঠানো হয়েছে এই নোটিশ বলেও অভিযোগ করেন। শেখ মনিরুল বলেন,”আমাদের নাম রয়েছে ২০০২ এর তালিকায়। তার পরেও ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। আমাদের মত গরিব মানুষ এখন কতবার করে যাবে ৩০ কিলোমিটার দূরে শুনানি কেন্দ্রে। ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন কমিশন আমাদের বিপাকে ফেলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবো।” কটাক্ষ করে রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন,”ভোটার তালিকায় ধর্মীয় বিভাজন করছে বিজেপি মনোনীত নির্বাচন কমিশন। প্রথম থেকেই যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যদি কোন যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যায় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটা হবে। কিন্তু তারপরেও দেখা যাচ্ছে জাঠ গড়িয়ার মত বহু প্রাচীন গ্রামের মানুষদেরও শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ যোগ্য জবাব দেবে।” পাল্টা দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন,”তৃণমূল ভয় পেয়েছে বলেই উল্টোপাল্টা বকছে তৃণমূল। আমরা বলছি যারা অবৈধভাবে এখানে রয়েছে তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যারা যোগ্য ভোটার যাদের কাছে সব নথি আছে তাদের কারণ নাম বাদ যাবেনা। কিন্তু তৃণমূল উল্টোপাল্টা বলেও রেহাই পাবে না। বাংলার মানুষ তৃণমূলের নাটক বুঝে যাচ্ছে।”



