সমাজের অসহায় মানুষদের সাথে ব্যাতিক্রমী জন্মদিন পালন সমাজসেবীর
আমার কথা, ৪ মে
সনাতন গরাই, কাঁকসা:
জন্মদিন মানেই শুধু কেক কাটা বা শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির গড়ে তুললেন কাঁকসার কুলডিহার বিশিষ্ট সমাজসেবী জয়দ্বীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বিশেষ দিনটিকে তিনি পরিণত করলেন মানবসেবার এক মহোৎসবে। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ ।রাজনৈতিকভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জয়দ্বীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার প্রমাণ করেছেন, মানুষের বিপদের সময় তাঁর কাছে দল-মত-ধর্ম কোনও বাধা নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সেই মানবিক ভাবনারই প্রতিফলন দেখা গেল তাঁর জন্মদিনের এই বৃহৎ সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে।
অনুষ্ঠানে এলাকার বহু অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় হুইলচেয়ার, চলাফেরার জন্য লাঠি এবং শ্রবণ সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য অত্যাধুনিক কানের মেশিন। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা এই ধরনের সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি। অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে জানান, এই সাহায্য তাঁদের জীবনের পথচলাকে আরও সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলবে।শুধু সাহায্য সামগ্রী বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি জয়দ্বীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য আয়োজন করা হয় বিশাল মধ্যাহ্নভোজের। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একসঙ্গে বসে ভোজন করেন, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। জয়দ্বীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই সারিতে বসে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। তাঁদের এই আন্তরিকতা ও মাটির মানুষের প্রতি ভালোবাসা উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকাজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। প্রবীণ, যুবক, মহিলা থেকে শুরু করে শিশু—সকলের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ। সমাজসেবামূলক এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এলাকার বিশিষ্টজনরাও। তাঁদের মতে, জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এমন মানবিক কর্মসূচি সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে এবং অন্যদেরও সমাজকল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে।
জয়দ্বীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “মানুষের আশীর্বাদই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। জন্মদিনে নিজের আনন্দ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আগামী দিনেও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”



