বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের দুর্গা পুজো মণ্ডপ দর্শন
আমার কথা, প্রণয় রায়, দুর্গাপুর, ২৯ সেপ্টেম্বর:

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মেলন এর দুর্গাপুর শাখা প্রতিবারের মতো এ বছরও বিশেষভাবে সক্ষম ৫৫ জন পুরুষ ও মহিলাদের নিয়ে দুর্গাপুরের মহাকুমা শাসক ডঃ সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বদান্যতায় এস বি এস টি সির একটি বাসে দুর্গাপুরের পুজো পরিক্রমায় বের হলো। ৫৫ জন বিশেষভাবে সক্ষম পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে পাঁচ জন দৃষ্টিহীন মানুষও ছিলেন এই পূজা পরিক্রমায়। দৃষ্টিহীন পিংকি দত্ত জানালো প্রতিবছরই এই দিনটার জন্য তিনি অপেক্ষা করেন। নিজে দেখতে না পেলেও তার সহযাত্রী বন্ধুদের দৃষ্টিতে তিনি প্রত্যেকটি পুজোই অনুভব করেন ও উপভোগ করেন। লতিকা বর্মনের শরীরের নিম্নাংশ একদম অকেজো।উনি এলেন হুইল চেয়ারে বসে উনার বাড়ির কারো সহযোগিতায়। জিজ্ঞেস করলাম কেমন লাগছে। উনি বললেন একটি দিন আমরা সব বিশেষভাবে সক্ষম মানুষেরা এক জায়গায় হই একসঙ্গে আনন্দে দুর্গাপুরের বড় বড় পুজো গুলো দেখতে যাই যা যাক কোনদিনও সম্ভব হতো না যদি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সমিতির দুর্গাপুর শাখা আমাদের এই ভ্রমণের ব্যবস্থা করত। ওনাকে যখন ধরে ধরে বাসে তোলা হলো বাসের মধ্যে বসে থাকা অন্যান্য বিশেষভাবে সক্ষম পুরুষ ও মহিলারা উল্লাসে করতালি দিলেন। ওরা দুর্গাপুরের বিভিন্ন বড় বড় দুর্গা পুজোগুলি দর্শন করবেন অনেকে নামবেন বাস থেকে আবার অনেকে হয়তো জানালা থেকেই যতদূর সম্ভব পুজো প্যান্ডেল গুলো দর্শন করবেন । দুর্গাপুর শাখার সম্পাদক গৌতম ঘোষ নিজেও একজন প্রতিবন্ধী। উনি জানালেন তারা সারা বছর ধরেই প্রতিবন্ধীদের জীবনের বিভিন্ন রকম প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রচুর কর্মসূচি নিয়ে কাজকর্ম করেন। প্রচুর মানুষ ও সংস্থা ওদের বিভিন্ন রকম সহায়তা করেন।
এই বাসটি দুর্গা পুজো দর্শনের জন্য যাত্রা করলো বেনাচিটির পাঁচ মাথার পাঁচ মাথার মোড় থেকে।যাত্রা শুরুর সংকেত দিলেন এই সংস্থার অন্যতম শুভানুধ্যায়ী ডিএসপি হাসপাতালের এজিএম ফিজিওথেরাপি ডঃ তপন বাদ্যকর। উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী প্রণয় রায় সহ অন্যান্যরা। যাত্রা শুরুর সময় এই পুজো পরিক্রমায় অংশগ্রহণকারীদের জলের বোতল ও কোল্ড ড্রিন্কস খাওয়ান মিতা মাহাতা চ্যাটার্জি।
আজ দুর্গাপুরের বিশেষ বিশেষ পুজো মণ্ডপ দর্শনের পর ওরা সবাই রিকল পার্কের আবাসিক শ্রীমতী আরতি মাহাতার পারিবারিক পূজোয় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।



