ছেলে সহ বাবা মায়ের মরদেহ এসে পৌঁছলো বাসভবনে, শোকে ভেঙ্গে পড়ল গোটা এলাকা
আমার কথা, সনাতন গরাই, দুর্গাপুর, ২ জানুয়ারী:
বৃহস্পতিবার নতুন বছরের প্রথম দিনেই পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। ওই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানি হয়, যা নতুন বছরের শুরুতেই এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তিনজনের দেহ তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সেল কো-অপারেটিভ এলাকার সারদামণি পথে আনা হয়। দেহ পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রিয়জনদের শেষবার দেখার জন্য এলাকাবাসীরাও ভিড় জমান। এই ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বামচাঁদাইপুরে। চারচাকা গাড়ি ও গ্যাসট্যাঙ্কার দুটিই কলকাতার দিকে যাচ্ছিল।চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাস ট্যাঙ্কারের পিছনে ধাক্কা মারে। স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যাস ট্যাঙ্কারের চালককে থামিয়ে দুর্ঘটনায় পড়া গাড়ি থেকে আরোহীদের উদ্ধার করে।মৃত তিন জন হল ছেলে শেখ সাহানাওয়াজ(২৭), বাবা সেখ মহম্মদ মুর্শেদ(৫৫) ও মা রেজিনা খাতুন (৫১)এরা তিনজন একই পরিবারভুক্ত। বাড়ি দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে।দুর্গাপুর থেকে দমদম এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় শক্তিগড় থানার বামচাঁদাইপুরে জাতীয় সড়কের পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে ট্যাংকারের পিছনে ধাক্কা মারলে এই তিনজনই মারা যান। গাড়ির ড্রাইভার সাহেব মুন্সীও গুরুতর জখম হয়েছে। জানা গেছে, বাবা দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় কর্মরত ছিলেন, ছেলে শেখ সাহানাওয়াজ মুম্বাইয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। আজ শুক্রবার তার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল। গতকাল তাদের কলকাতায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার কথা ছিল। আজ ছেলেকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে দুর্গাপুরে ফেরার কথা ছিল বাবায়া মায়ের।



