ডায়গনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে রয়েছে গল্ডব্লাডার কিন্তু ছবিতে নেই, ধ্বন্দে দম্পতি
আমার কথা, কাঁকসা, ১২ জুনঃ
পানাগড় বাজারের একটি নামকরা ডায়গনস্টিক সেন্টারে বিরুদ্ধে এবার ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠল। যাকে ঘিরে পানাগড় বাজারে শোরগোল পরে গিয়েছে। এই বিষয়ে কাঁকসা ব্লক আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
ঘটনার প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, গত ৫ তারিখে পানাগড় বাজারের রেলপাড়ের বাসিন্দা সুব্রত সিনহা তার স্ত্রী দেবপ্রিয়া সিনহার পেটের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানাগড় বাজারে ‘স্পন্দন’ নামক একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রা সোনোগ্রাফি(ইউএসজি) করান। সেই ইউ এস জি রিপোর্টে লেখা হয় দেবপ্রিয়া সিনহার পেটে গলব্লাডারে স্টোন দেখা দিয়েছে। যেহেতু তার চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে বিশেষ কিছু জ্ঞান নেই। তাই তিনি সেই রিপোর্ট দেখিয়ে ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনার কথা থাকলেও তিনি ওষুধ কিনতে দেরি করেন।
পরে তিনি অন্য এক চিকিৎসকের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করতে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে জানান তার স্ত্রীর দু’বছর আগে গলব্লাডার অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে সেখানে পাথর কিভাবে জন্মালো। তৎক্ষণাৎ তিনি ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারে এই বিষয়ে ফোন করে জানালে তাকে উল্টে বলা হয় কোন কারণবশত প্রিন্টিং মিসটেক হয়ে গিয়েছে তাই ভুল রিপোর্ট চলে গেছে। ভুল রিপোর্ট শুধরে তাকে রাতারাতি সঠিক রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হবে। বড়সড়ো দুর্নীতি চলছে বলে অনুমান সুব্রত সিনহার।এরপরে বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
যদিও ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্ণধার পূর্ণেন্দু ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ওই মহিলার ইউএসজি করার সময় তাকে সাপোর্টিং যে ছবি দেওয়া হয়েছিল তাতে কোনো রকম ভুল ছিল না। তবে রিপোর্টে প্রিন্টিং এর মিসটেক হয়ে যাওয়ার কারনে ভুল রিপোর্ট ছাপা হয়ে গিয়েছে। তাদের বলা হয়েছিল তারা যাতে দ্রুত সঠিক রিপোর্ট নিয়ে যায়।
সুব্রত সিনার প্রশ্ন, যদি ভুল রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ কিনে তার স্ত্রীকে খাওয়াতেন, তবে ভুল ওষুধের কারণে যদি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতো, তার ক্ষতিপূরণ কে দিত? অন্যদিকে একটা বড় প্রতিষ্ঠান কিভাবে এই ভুল কাজ করে সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এছাড়াও ভুল রিপোর্টের বিষয়টি তিনি জানার পর যখন রাত্রে ফোন করেন তৎক্ষণাৎ ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারের কর্ণধার পূর্ণেন্দু ব্যানার্জি তাকে ডায়গনস্টিক সেন্টারে এসে সঠিক রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেন,তার প্রশ্ন একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে রিপোর্ট আনতে গেলে তার একটা সময় লাগে। রাতারাতি কিভাবে তিনি রিপোর্ট বদলে দিতে পারেন? তবে কি আগে থেকেই চিকিৎসিকের সই করা প্যাড পূর্রণেন্দুবাবুর কাছে মজুদ রয়েছে, নাকি চিকিৎসকও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত? কারণ একজন চিকিৎসক যখন রিপোর্টে সই করেন তখন গোটা বিষয়টি দেখে তবেই তিনি সই করেন। একটা ভুল রিপোর্টে একজন চিকিৎসক কিভাবে সই করে দেন সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।



