লাউদোহা গ্রামে আজও হয় বিরকুলটি গ্রামের জমিদার পরিবারের ছেড়ে যাওয়া দূর্গা পুজো
আমার কথা, লাউদোহা, সার্থক কুমার দে, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ
লাউদোহা গ্রামে দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন বিরকুলটি গ্রামের প্রয়াত জমিদার । নিঃসন্তান শেষ জমিদার সেই পুজোর ভার অন্যদের দিয়ে যান । তারাই এখন সেই পুজো আয়োজন করে । এখনে সপরিবার প্রতিমা টি প্রথা বিরুদ্ধ । দুর্গার বাঁদিকে গণেশ আর কার্তিক বিরাজ করেন ডানদিকে ।
দুর্গা পুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব । আর কয়েক দিনের অপেক্ষা, কাশফুল, শিউলির গন্ধ আর ঝলমলে আকাশ জানান দিচ্ছে মায়ের আগমন । কেনাকাটার পাশাপাশি চলছে, মাকে বরণ করার প্রস্তুতিও । দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহা গ্রামের নামোপাড়ায় সেই ব্যস্ততা চোখে পড়ে । এখানেই হয় জামুরিয়ার বিরকুলটি গ্রামের তৎকালীন জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো । ঘটনা সূত্রে জানা যায় বিরকুলটির তৎকালীন জমিদার নিত্য গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের বিষয় সম্পত্তি ছিল দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকেও । সেই সূত্রে ছিল লাউদোহা গ্রামে আসা যাওয়া । প্রায় ২০০ বছর আগে তিনি এখানে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন । পরবর্তীকালে সেই পুজোর দায় বর্তায় নিত্যগোপাল বাবুর সন্তান ডাঃ গোবর্ধন চ্যাটার্জির উপর । তার ছিল দুই স্ত্রী, প্রথম স্ত্রী পুষ্পারাণি আর দ্বিতীয় স্ত্রীর ছিলেন প্রমিলা সুন্দরী । কিন্তু তাদের কোন সন্তান ছিল না । ১৯৫৪ সালে জমিদারি প্রথার বিলোপ হয় । তার বছর দশ পর ১৯৬৪ সালে গোবর্ধন বাবু পারিবারিক পুজোর দায়িত্ব দিয়ে যান গ্রামের ক্ষিতীশ চ্যাটার্জী, হরেন্দ্র কুমার চ্যাটার্জী, সুধাংশু চ্যাটার্জিদের । তখন থেকে চ্যাটার্জি পরিবার জমিদারদের ছেড়ে যাওয়া পুজোর আয়োজন করে আসছে ধারাবাহিকভাবে । এখানে দুর্গা প্রতিমা টি অন্যান্য দুর্গা প্রতিমার তুলনাই আলাদা । এখানে গণেশ থাকে দুর্গার বা পাশে, আর কার্তিক বিরাজ করে দেবীর ডান পাশে । সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী হয় ছাগ বলি । পুজোর সূচনা হয় ষষ্ঠীর দিন থেকে । চ্যাটার্জি পরিবারের বর্তমান সদস্য নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, সোমনাথ চ্যাটার্জিরা জানান পুজোর দায়িত্ব অর্পণের সাথে বেশ কিছু সম্পত্তিও দান করে গেছেন প্রয়িত জমিদার পরিবার । সেই সম্পত্তি দেখভালের জন্য রয়েছে ট্রাস্টি বোর্ড । সম্পত্তির আয় থেকেই পুজোর আয়োজন হয় । আরও বলেন “তারা মা কালি ” তাদের কুলো দেবতা । ষষ্ঠীর দিন প্রথমে কুলো দেবতা তারা মায়ের পূজো হয় তারপর শুরু হয় দুর্গাপুজো । গ্রামের উঁচু পাড়াতে ঘটক পরিবারের পুজোর বলিদানের পরই তাদের মন্দিরে বলিদান হয় বলে জানান তারা ।



