বহুদিনের দাবি পূরণ! শ্যামরূপা মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা পাকা হল
আমার কথা, ১ মার্চ
সনাতন গরাই, কাঁকসা:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বহু বছরের দাবি পূরণ করল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্পূর্ণ হলো রাজা লক্ষণ সেনের শ্যামরূপা মন্দির ও ইছাই ঘোষের দেউল যাওয়ার প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজ। আর আজ সেই বহুল প্রতীক্ষিত রাস্তার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা অঞ্চলে। রবিবার সকাল থেকেই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্ত, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা। নতুন রাস্তার দু’ধারে সাজসজ্জা, ব্যানার ও তৃণমূলের পতাকায় উৎসবের রূপ নেয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বহু মানুষ এই দিনটির সাক্ষী থাকতে আগেভাগেই পৌঁছে যান। কারণ এই রাস্তা শুধুমাত্র একটি যোগাযোগ পথ নয় এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের ফল, উন্নয়নের প্রতীক।ফিতে কেটে রাস্তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ও সাংসদ কীর্তি আজাদ। প্রশাসনিক আধিকারিক, এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল। উদ্বোধনের মুহূর্তে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার তাঁর বক্তব্যে জানান, এই রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা বহুদিনের। বনদপ্তরের জমি হওয়ায় অনুমোদন পেতে সময় লেগেছে, কিন্তু সব দপ্তরের সমন্বয়ে অবশেষে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পেভার ব্রিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই রাস্তা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, ভারী বালির গাড়ি যাতে এই রাস্তা ব্যবহার করে ক্ষতি করতে না পারে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংসদ কীর্তি আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই রাস্তা শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, বরং শ্যামরূপা মন্দিরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে। সাংসদ তহবিলের অর্থ থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে একটি দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণ করা হবে, যাতে মন্দিরের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পায়।” তাঁর এই ঘোষণায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। উল্লেখ্য, এতদিন কাঁচা পথের কারণে বিশেষ করে বর্ষাকালে মন্দিরে পৌঁছনো ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। কাদা, যানজট, দুর্ঘটনার আশঙ্কা সব মিলিয়ে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের চরম সমস্যায় পড়তে হত। দুর্গাপুজো সহ বিশেষ বিশেষ রীতিতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও রাস্তার দুরবস্থার কারণে ভোগান্তি ছিল নিত্যসঙ্গী। নতুন এই পাকা রাস্তা সেই সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিল বলেই মত স্থানীয়দের। উদ্বোধন তাই শুধুমাত্র একটি রাস্তার উদ্বোধন নয় এটি উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার অর্থনীতি, পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও বাড়বে বলে আশাবাদী সকলেই। বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাওয়ায় আনন্দে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী।



