‘জামাইপাড়া’তে নেই জামাইষষ্ঠীর রীতি
আমার কথা, অন্ডাল, ১ জুনঃ
বাংলা জ্যেষ্ঠ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ঘটা করে পালন করা হয় জামাইষষ্ঠী। এই বিশেষ দিনে বাপের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হয় মেয়ে জামাইকে। জামাইদের জন্য উপহারের পাশাপাশি থাকে আম, কাঁঠাল, লিচু, ইলিশ মাছ সহযোগে ভুরিভোজের আয়োজন। জামাই ষষ্ঠী উৎসব বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লৌকিক আচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই পরম্পরা চলে আসছে বহু কাল থেকে। রবিবার বাঙালির ঘরে ঘরে এই জামাইষষ্ঠী উৎসব পালন করা হলো ঘটা করে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেল অন্ডাল ব্লকের উখড়া গ্রামের জামাই পাড়াতে। পাড়ার নাম “জামাই পাড়া” হলেও এখানে নেই জামাই ষষ্ঠী পালনের রীতি। যা নিয়ে রীতিমত আক্ষেপ রয়েছে বাসিন্দাদের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ২০-২৫ বছর আগে বর্তমান জামাই পাড়া এলাকাটি ছিল ফাঁকা সরকারি জমি। পরবর্তী সময়ে সেখানে বসতি গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে। বর্তমানে এই পাড়ায় রয়েছে প্রায় ৩০ টি পরিবার। গৃহকর্তারা অধিকাংশই জামাই হিসাবে পরিচিত। বিয়ের পর জামাইরা বাড়ি তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করে এখানে। সেই কারণে পাড়া টির নাম “জামাই পাড়া” হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। পাড়ার অদূরে রয়েছে দ্বারবাসিনী মন্দির। জামাইষষ্ঠীর দিন এই মন্দিরে ঘটা করে আয়োজন হয় ষষ্ঠী পুজোর। গ্রামের মহিলারা মন্দিরে আসেন পুজো দিতে।
রবিবার ষষ্ঠীর দিন জামাই পাড়াতে গিয়ে বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে দেখা যায় জামাই ষষ্ঠীর রীতি না থাকায় তাদের মধ্যে রয়েছে আক্ষেপ ও হতাশা। জিতেন দে, সন্তোষ গড়াইরা বলেন কর্মসূত্রে এই গ্রামে এসেছিলাম। পরবর্তীকালে এখানে বিয়ে হয়। জামাই পাড়াতে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করি। কিন্তু কোনদিন এই পাড়াতে কারো বাড়িতে জামাইষষ্ঠীর আয়োজন দেখিনি। গৃহবধূ সরস্বতী গড়াই বলেন জামাইষষ্ঠীর দিন খুব মন মরা লাগে। অন্যান্য পাড়ায় জামাইষষ্ঠীর আয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের পাড়াতে এই রীতি আওয়াজ নেই। মালতি, পুষ্পারা বলেন জামাই পাড়াতে কেন জামাইষষ্ঠীর হয় না তা জানা নেই। আগামী দিন পাড়াগত ভাবে জামাইষষ্ঠী আয়োজনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান তারা ।



