তিন হারা আসন পুনরুদ্ধারে বাড়তি নজর জোড়া ফুলের
আমার কথা, ২০ মার্চ
সার্থক কুমার দে, পশ্চিম বর্ধমান:
২০২১ এর বিধানসভা ভোটে রেকর্ড সংখ্যক আসন জিতে সরকার গড়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সেবার পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ৯ টি আসনের মধ্যে কুলটি, আসানসোল দক্ষিণ ও দুর্গাপুর পশ্চিম এই তিনটি আসনে পরাজিত হয় জোড়া ফুল প্রার্থীরা। এই তিনটি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। হারা আসন গুলি পুনরুদ্ধার করতে এবার বিশেষ নজর দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। দলীয় সূত্রের খবর আইপ্যাক সহ একাধিক সংস্থাকে দিয়ে অন্যান্য আসন গুলির মত এই তিনটি আসনেও সমীক্ষা করা হয়েছে একাধিকবার। সমীক্ষক সংস্থাগুলির সুপারিশ পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। উল্লেখ্য কুলটি আসনটিতে ২০০৬ সাল থেকে টানা তিনবার তৃণমূলের প্রতীকে বিধায়ক হয়েছেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২১ এর ভোটে সামান্য ব্যবধানে হেরে যান তিনি জয়ী হোন বিজেপি প্রার্থী অজয় পোদ্দার। দলীয় কোন্দলের কারণে হার বলে উঠে আসে সমীক্ষায়। তাই দল এবার কোন ঝুঁকি না নিয়ে উজ্জ্বল বাবুর জায়গায় প্রার্থী করেছেন বয়সে নবীন মন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটককে। অন্যদিকে আসানসোল দক্ষিণ আসনে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বিধানসভা ভোটে রানীগঞ্জ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে তাপস বাবুকে আসানসোল দক্ষিণ থেকে সরিয়ে রানীগঞ্জে প্রার্থী করা হয়। পরিবর্তে আসানসোল দক্ষিণে প্রার্থী করা হয়েছিল তারকা নেত্রী সায়নী ঘোষকে। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে তিনি সামান্য কিছু ভোটে পরাজিত হন। এবার এই আসনটিও পুনরুদ্ধার করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। ফের এখানে প্রার্থী করা হয়েছে ভূমিপুত্র তাপস বাবুকে। কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধারে তাপস বাবুর ওপর ভরসা রাখছে নেতৃত্ব । দলের কর্মীদের একাংশ দাবি গতবার প্রার্থী বহিরাগত হওয়ায় প্রভাব পড়েছিল। তাপস বাবু প্রার্থী হওয়ায় এখানে আবার জয়ের মুখ দেখার বিষয় আশাবাদী বলে দাবি কর্মীদের। তাপস বাবু বলেন মানুষের আশীর্বাদে আবার জিতে দিদির সম্মান রাখবো । জেলার আরও একটি হারা আসন পুনরুদ্ধারে এবার সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে ঘাসফুল শিবির। সেই আসনটি হল দুর্গাপুর পশ্চিম। ২০১১ সালে এই আসনটি প্রথমবার জিতেছিল তৃণমূল । গত দুটি ভোটে হয়েছে টানা হার । বর্তমানে এই কেন্দ্রটি বিধায়ক বিজেপির লক্ষণ ঘুড়ুই । এবার আসনটি ছিনিয়ে নিতে তৃণমূল প্রার্থী করেছে পেশায় ব্যবসায়ী তথা আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবি দত্তকে। এলাকার শিল্পপতি, বণিক মহল, ক্রিয়া, শিল্প সংস্কৃতি জগতের মানুষের মধ্যে বিশেষ প্রভাব রয়েছে কবি বাবুর। আসনটি পুনরুদ্ধারে সেরা বাজি কবি দত্তই বলে মনে পড়ছে এলাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন দল সবদিক বিবেচনা করে যোগ্যদের প্রার্থী করেছে। এবার ৬ নয়, জেলার ৯ টি আসনই তৃণমূল জিতবে বলে দাবী করেন তিনি।




