৪০ কোটির ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড়, কড়া তদন্তের বার্তা সমবায় মন্ত্রীর
আমার কথা, ২৯ আগস্ট
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। শনিবার দুর্গাপুরে এসে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানান, সুদ-সহ অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৪০ কোটি ৬০ লক্ষ ৫১ হাজার ৫৬৫ টাকা। এত বড় অঙ্কের ঋণ কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অনুমোদন করা হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু হচ্ছে বিস্তারিত তদন্ত।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ২১টি বড় ঋণ চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে একই ব্যক্তি বা সংস্থাকে একাধিকবার ঋণ দেওয়া, ভুয়ো বা অসঙ্গত নথির ব্যবহার এবং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত—কোনও আধিকারিকই তদন্তের বাইরে থাকবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
অনাদায়ী ঋণের টাকা উদ্ধারে প্রশাসন এবার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, মামলা এবং জেল—সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন সমবায় মন্ত্রী। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কের ঋণ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তির দায়িত্বে থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
এদিন দুর্গাপুরের মহিলা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে নতুন এটিএমের উদ্বোধনও করেন অশোক কীর্তনিয়া। উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘরুই। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই মন্ত্রীর বার্তা, সমবায় ব্যাঙ্কে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।



