মহিলার রহস্য মৃত্যুর পর্দা ফাঁস, গ্রেপ্তার খুনি প্রেমিক, গোপন নাম্বারেই ফাঁস হল খুনির চক্রান্ত
আমার কথা, সার্থক কুমার দে, লাউদোহা, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ
৩১ শে আগস্ট লাউদোহার শ্রীকৃষ্ণপুরে পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে উদ্ধার হয় আলেয়া বিবির মৃতদেহ । দেহে ছিল একাধিক আঘাতের চিহ্ন। সেই জন্য মৃত্যুর কারণ নিয়ে বাঁধে রহস্য। অবশেষে পুলিশি তদন্তে রহস্য উদঘাটিত হয়। খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মৃত মহিলার প্রেমিককে। ব্ল্যাকমেলিং এর কারণেই খুন করেছি বলে স্বীকার করে ধৃত।
১৬ই আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের রাঙ্গামাটি গ্রামের বধূ আলেয়া বিবি (৩৫)। ৩১শে আগস্ট শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের কালী মন্দির সংলগ্ন একটি কুয়ো থেকে ওই গৃহবধুর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় । মৃত্যুর কারণ নিয়ে ছড়ায় রহস্য। দেহ উদ্ধারের দিন মৃত আলেয়া বিবির স্বামী গিয়াসউদ্দিন জানিয়ে ছিলেন ১৬ই আগস্ট সকালে ছেলেকে টিউশন মাস্টারের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাড়িয়ে ফিরে দেখি স্ত্রী বাড়িতে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন খোঁজ না পেয়ে অবশেষে থানায় মিসিং ডায়েরি করি । দেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করে দুর্গাপুর ফরিদপুর থানার পুলিথ। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হয় প্রণয়ঘটিত কারণেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রেও উঠে আসে সেরকমই সম্ভাবনার কথা। একাধিক পুরুষের সাথে ওই মহিলার অবৈধ সম্পর্কের কথা জানা যায়। বিভিন্ন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণের ভিত্তিতে অবশেষে মহিলার মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। ওই মহিলাকে খুন করার অভিযোগে রবিবার গ্রেপ্তার করা হয় শেখ সালাউদ্দিন নামে এক যুবককে। ধৃত যুবকের বাড়ি ও মহিলার শ্বশুর বাড়ি একই জায়গায় (রাঙ্গামাটি গ্রাম) বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার দুর্গাপুর থানায় বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা। তিনি বলেন ধৃত সালাউদ্দিনই ঐ মহিলার খুনি । বর্তমানে সে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত খুনের কথা স্বীকার করেন। বলেন কাটারি দিয়ে খুন করে ইঁটের সাথে বেঁধে মহিলার দেহটি সে কুয়োতে ফেলে দেয়। বেশ কিছুদিন ধরেই মৃত আলেয়া বিবির সাথে সালাউদ্দিনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই মহিলা তাকে ব্ল্যাকমেলিং করতে শুরু করে। তা থেকে মুক্তি পেতেই আলেয়া বিবিকে সালাউদ্দিন খুন করেছে বলে উঠে আসে তদন্তে।



