পাতানো মাকে কেন গালাগালি করা হচ্ছে! প্রতিবাদ করতেই কুড়ুলের কোপ
আমার কথা, ২ মার্চ
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
রাতের অন্ধকারে রক্তে ভেসে গেল দুর্গাপুর থানার পলাশডিহা। পাতানো মাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালির প্রতিবাদ করতেই কুপিয়ে খুন যুবককে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় দুর্গাপুর থানার পলাশডিহা এলাকার দক্ষিণ আদিবাসী পাড়ায়। রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দুর্গাপুর থানা-র পুলিশ। মৃত যুবকের নাম গোপাল দাস (৩০)। তিনি পলাশডিহারই বাসিন্দা এবং পেশায় গাড়ির চালক ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যুধিষ্ঠির মাহাতোর সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল বিজয় টুডুর। সেই পুরনো রাগ থেকেই রবিবার রাতে যুধিষ্ঠির মাহাতোর স্ত্রী ঊর্মিলা সিংকে লক্ষ্য করে গালাগালি করে বিজয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, প্রকাশ্যে ঊর্মিলাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে সে।ঊর্মিলা সিংকে নিজের পাতানো মা বলে মানতেন গোপাল দাস। প্রতিবেশীদের দাবি, ওই অপমান সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদে এগিয়ে যায় গোপাল। তিনি বিজয়কে গালাগালি বন্ধ করতে বলেন। আর তাতেই রাগ আরো বেড়ে যায় অভিযুক্তর। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যে ধারালো কুড়ুল বাড়ি থেকে নিয়ে গোপালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয় টুডু। মাথায় একাধিক জায়গায় কোপ মারা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে গোপাল।চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। দক্ষিণ আদিবাসী পাড়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত বিজয় টুডুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। কী কারণে এত বড় ঘটনা ঘটল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।একটি সামান্য প্রতিবাদ আর তারই মাশুল প্রাণ দিয়ে চুকাতে হল এক যুবককে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ পলাশডিহা। পাতানো মা উর্মিলা সিং দাবি করেন,”গোপালকে কুড়ুল দিয়ে মাথায় কোপ বসিয়ে খুন করলো বিজয়। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাইছি।” এলাকাবাসী লাল্টু বাউড়ি ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন,”বিজয় টুডু এলাকার মানুষদেরকে ভয় দেখায়। এর আগেও একাধিকবার এরকম ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম পুলিশ কেউ জানিয়েছিলাম। তারপর ফের আবার এইভাবে হত্যা করল নিরীহ যুবককে। কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবো।”



